X

সেতু নির্মাণ শেষ; কিন্তু উদ্বোধনের আগেই ধস

গত মাসে চন্দনাইশ উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল ধোপাছড়ি ইউনিয়নে ধোপাছড়ি খালের উপর একটি সেতু নির্মিত হয়েছে। কিন্তু সেতুটি নির্মাণ শেষ হওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় এর বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দেয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। গত ১৫ জুন সেতুটি উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা আর হয়নি।

মাঝখানে দেবে যাওয়া সেতুর গায়ে এখন বড় বড় ফাটল। দুদিকের সংযোগ সড়কের জন্য ভরাট করা মাটি সরে গেছে। সেখানে কাঠের পাটাতন দিয়ে আপাতত মানুষ চলাচল করছে।

আট মাইল দীর্ঘ ‘কুমারী সড়কের’ ছাপাছড়ি এলাকায় পড়ে ধোপাছড়ি খাল। খালের উপর কাঠের পাটাতন দিয়ে স্থানীয়রা সড়কের অন্য পাশে যাতায়াত করতেন এতদিন।

ধোপাছড়ি ইউনিয়নের উত্তর অংশের প্রায় ১০ হাজার মানুষের বাস। খালের উপর এ সেতুটি হলে তাদের ব্যবহার ও চলাচল সহজ হত। এখানকার অধিকাংশ মানুষই কৃষিনির্ভর। তাদের উৎপাদিত ফসল নিয়ে বর্ষাকালে এ খাল পার হতে খুব দুর্ভোগে পড়তে হয়।

এটি ধসে যাওয়ার পেছনে ঠিকাদাররা দুষছেন গত ১৩ জুনের ভারি বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলকে। গত ১৩ জুনের ভারি বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে পাইলিংয়ের ১৫ ফুট নিচ থেকে মাটি সরে গেলে সেতুটি ধসে পড়ে। সেতুটির নির্মাণ শেষ হওয়ার সময়সীমা ছিল তিন মাস; ৪১ দিনের মধ্যেই তার কাজ শেষ করেন ঠিকাদার।

নির্মাণে কোনো দুর্নীতি হয়নি দাবি করেন ঠিকাদারি সংস্থা ‘এ কে সিন্ডিকেট কনস্ট্রাকশন কোম্পানী’। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে আসা গাছের বড় বড় গুঁড়ির আঘাতকে সেতু ধসের কারণ হিসেবে দেখান ঐ প্রতিষ্ঠানের মালিক। এছাড়া নির্মাণ কাজে কোনো ত্রুটি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তবে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটা কমিটি গঠন করেছেন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান। ১৫ ‍জুলাইয়ের মধ্যে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার কথা। তদন্তে কোনো দুর্নীতি কিংবা কারও বিরুদ্ধে গাফিলতির কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হবে বলে জানান তিনি।

চন্দনাইশ উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের ধোপাছড়ি ইউনিয়নের ছাপাছড়ি এলাকার অধিকাংশ মানুষই কৃষিনির্ভর। তাদের উৎপাদিত ফসল নিয়ে বর্ষাকালে এ খাল পার হতে খুব দুর্ভোগে পড়তে হয়। প্রতি বর্ষায় যে খালের স্রোত ডিঙিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয় স্থানীয়দের।

সেতুটির নির্মাণ দেখে দুর্ভোগ ঘুচে যাওয়ার আশা করেছিলেন অনেকেই। উদ্বোধনের আগেই সেতুটি ধসে পড়ার উপক্রম হওয়ায় তাদের সে আশার গুঁড়ে বালি পড়েছে। এটি এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় আক্ষেপের অন্ত নেই এ এলাকার বাসিন্দাদের।

মন্তব্য করুন

comments