‘আমি কি বাচঁবো’?

702
শেয়ার

নাম তাদের রীতি এবং নীতি, বাংলা অর্থ করলে যার মানে দাঁড়ায় নিয়ম কানুন। অথচ সব নিয়্ম কানুন ওলট পালট করে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিতে যাচ্ছে দুজনই। গত দুইদিন আগে একজনের মৃত্যুর পরে অন্যজন ও ক্রমেই ধাবিত হচ্ছে মৃত্যুর দিকে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাতর জিজ্ঞাসা তার ‘ আমি কি বাচঁবো’?

২০০৭ সালের ১৬ই অক্টোবর একসাথেই পৃথিবীতে এসেছিলো ওরা।পুতুলের মতো যমজ দুটি বোন। একজন হাসলে আরেকজন হাসতো ,একজন কাদঁলে অন্যজন কাদঁতো।সবসময় একই সাজ, মিলিয়ে মিলিয়ে পোশাক পরতো দুজন।সবকিছুই একই তাদের, শুধু আলাদা তাদের শরীর।

এখন একজন আর কখনোই হাসবেনা, কখনোই কাদঁবেনা।গত ২৬শে সেপ্টেম্বর বিদায় নিয়েছে দুটি বোনের একজন নীতি।রীতি এখনো জানেনা সেই খবর , হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বারংবার তার সংশয়পূর্ণ জিজ্ঞাসা ‘আমার নীতি কই?তাকে একবার দেখতে চাই’ । হয়তো মনে মনে তার জানা হয়ে গিয়েছে কিন্তু মনকে বোঝাতে পারছেনা। নেই তার সেই চিরাচরিত চঞ্চলতা, নেই তার মুখের হাসি।

মায়ের সাথে রীতি এবং নীতি

কি হয়েছে তাদের? ডাক্তার বলছে, দুরারোগ্য ক্রন্ ব্যাধিতে আক্রান্ত দুজনই।শ্বেত রক্তকণিকা স্বল্পতায় ভুগছে দুজনই।খুব দ্রুত কমে যাচ্ছে ওদের রক্তের শ্বেতকনিকা, শুকিয়ে যাচ্ছে বোন ম্যারো। নিয়তির কি নির্মম পরিহাস দুজনেরই একই সাথে ধরা পড়েছে এই দুরারোগ্য ব্যাধি।

ক্রন ব্যাধি হলো খাদ্য হজমের প্রক্রিয়ায় ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক(প্রদাহজনিত) এক সমস্যা যা ধীরে ধীরে শরীরের অন্য অঙ্গগুলোকেও(মুখ থেকে শুরু করে শরীরের পশ্চাৎদেশ পর্যন্ত) অকেজো করে দেয়। পরিসংখ্যান বলছে, এই রোগ সবচেয়ে বেশি হয় শ্বেতাঙ্গদের যাদের বয়স ১৬ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের এই রোগের সংক্রমণ হার বেশি। অথচ সব পরিসংখ্যান ভুল প্রমাণ করে রীতি ও নীতি মাত্র ৯বছর বয়সেই এ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে এবং জীবন এখন সংশয়াপন্ন।

পাঁচ মাস আগে তাদের এই রোগ ধরার পরে ঢাকা ধানমন্ডীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হলো।সাথে সাথে ব্যয় শুরু হলো কাড়ি কাড়ি অর্থের। দিন যায়, মাস যায়। কিন্তু রীতি, নীতির শারীরিক গতি পরিবর্তন হয়না। অবশেষে শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি দেখতে না পেয়ে তার পরিবার তাকে নিয়ে গেলো কলকাতার মুকুন্দপুর আমরি হাসপাতালে।

সেখানকার ডাক্তাররা জানালেন, সুস্থ করে তুলতে হলে যত দ্রুত সম্ভব বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে দুজনেরই।কিন্তু ব্যয় বহুল এই চিকিৎসার শুরু করার আগেই একজন চলে গেলো পরপারে চিরতরে।প্রাণপ্রিয় এক সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছে্ন মা , বার বার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন, অন্যদিকে নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও অন্যজনকে স্বান্তনা দিতে হচ্ছে এই বলে যে, ‘তোমার কিছুই হয়নি মা, নীতি ভালোই আছে’ । তাদের মা শারমীন টিনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর ৯৮/৯৯ শিক্ষাবর্ষের এনথ্রোপোলজির ছাত্রী ছিলেন। তিনি কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আবুল কাসেমের বড় মেয়ে। মেধার পরিচয় দিয়ে বেশ কিছুদিন বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারারও ছিলেন। জীবনের যা কিছু সঞ্চয় ছিলো তার এবং তার পরিবারের সবই ঢেলে দিয়েছেন তারা চিকিৎসার খরচ মেটাতে ।

ব্যায়বহুল এই চিকিৎসার ভার বইতে হিমশিম খাচ্ছে তার পরিবার। পরিবারের সদস্যরা মিলে চিকিৎসার জন্য যথাসাধ্য অর্থ যোগাড় করেছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।এক সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা মা এর এখন একটাই চাওয়া তার অন্য সন্তান যাতে চিকিৎসার অভাবে দুনিয়া থেকে বিদায় না নেয়। এখনো তার চিকিৎসা বাবদ ২৫০০০০০(পচিঁশ লক্ষ) টাকার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।

সবার একটু আর্থিক সহায়তায় পারে একটা ফুটফুটে নিস্পাপ শিশুকে পৃথীবির আলো দেখাতে, কতজন কতদিকেই তো সাহায্য করে কিংবা করছে । একটু সাহায্য না হয় একটি নিস্পাপ শিশুকে বাচাঁতে করি আমরা!

খুব কি কঠিন কাজ?

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানাঃ

A/C Name: Tasmina Chowdhury.
AC no :102.101.308431

Ducth Bangla Bank.
Agrabad Branch.Ctg.

01911277009 (personal)

 

https://www.gofundme.com/riti-nitis-medical-bills

মন্তব্য করুন

comments