মেডিকেল সেন্টারে মেয়াদোত্তীর্ণ জীবনরক্ষাকারী ওষুধ জব্দঃ ১ লক্ষ টাকা জরিমানা

31
শেয়ার

বন্দরনগরীর প্রাণকেন্দ্র জিইসি মোড়ের ও আর নিজাম রোডে অবস্থিত বেসরকারী হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।এসময় অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও প্যাথলজিতে মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক উপাদান পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং সেই সাথে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ওই ক্লিনিকে আকস্মিক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া মুন এ অভিযানের নের্তৃত্ব দেন।এসময় চট্টগ্রাম ওষুধ প্রশাসন ও নগর পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্লিনিকটিতে উপস্থিত হয়ে দেখতে পান অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহার করা হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ।জব্দ করা ওষুধের কোনওটির মেয়াদ একবছর আগে; কোনটির মেয়াদ আবার শেষ হয়েছে ৬ মাস আগে।এরমধ্যে আছে জীবনরক্ষাকারী ওষুধও। এসব মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ অপারেশনের কাজে ব্যবহার করা হলে রোগী মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে বলে জানান উপস্থিত মেডিকেল অফিসার এবং সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. নুরুল রায়হান।

তাছাড়া বেসরকারি হাসপাতালটির বিরুদ্ধে প্যাথলজিতে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার এবং ওষুধ সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করার আলামতও পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, অনভিজ্ঞ ও সনদবিহীন লোক দিয়ে এক্সরে করার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানান ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া মুন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া মুন বলেন, কোনও প্রকার ডিগ্রি ছাড়া সনদবিহীন অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে এক্সরে মেশিন চালানোরও প্রমাণ পেয়েছি আমরা। ক্লিনিকটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি সতর্কও করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওষুধ প্রশাসনের ড্রাগ সুপার শফিকুর রহমান জানান, ফার্মেসিতে ২৫ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড তাপমাত্রার নিচে ওষুধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও রাখা হয়েছে ৩২ থেকে ৩৩ সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। এত বেশি তাপমাত্রায় ওষুধ রাখা হলে এতে ওষুধের গুনাগুণ নষ্ট হয়ে তা বিষাক্ত হয়ে যাবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।এভাবে ওষুধ রাখা ওষুধ আইন ১৯৪০ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

মন্তব্য করুন

comments