X

অতিরিক্ত গৃহকরের চাপে চট্টগ্রামের ভবন মালিকরা

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় চারতলাবিশিষ্ট ১৪৯৩/৩/২৪০৮ নম্বর বাসা থেকে ভাড়া বাবদ আয় হয় মাসে ৬০ হাজার টাকা বা বছরে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। গত বছর পর্যন্ত ভবনটির গৃহকর ছিল ৮০ হাজার টাকা। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন গৃহকর দাবি করেছে ৮ লাখ টাকা।
করপোরেশনের এ চিঠি দেখে ক্ষুব্ধ ভবন মালিক ফারজানা মালিক।

তিনি বলেন, পুরো বছরে ভবন থেকে ভাড়া বাবদ আয় হয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। অথচ সিটি করপোরেশন ভবনটির গৃহকর দাবি করেছে ৮ লাখ টাকা। এর অর্থ হচ্ছে, গৃহকর পরিশোধে সারা বছরের ভাড়ার সঙ্গে পকেট থেকে আরো ৮০ হাজার টাকা দিতে হবে।

নিজস্ব ভবনে চলে জনতা ব্যাংক আগ্রাবাদ করপোরেট শাখা। গত বছর ভবনটির জন্য ব্যাংক গৃহকর পরিশোধ করে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ৯২৬ শতাংশ বাড়িয়ে চলতি অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির কাছে গৃহকর দাবি করা হয়েছে ১৭ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. সিরাজুল করিম মজুমদার বলেন, এক বছরে হঠাত্ প্রায় ১০ গুণ গৃহকর বৃদ্ধির বিষয়টি আমরা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জানিয়েছি। প্রধান কার্যালয়ের পরামর্শে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ধার্য অতিরিক্ত গৃহকর বাতিল করে গ্রহণযোগ্য কর নির্ধারণ করতে মেয়রের কাছে অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছি।

বর্ধিত গৃহকর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভাড়াটিয়ারাও। নগরীর চকবাজার রসুলবাগ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা খালেদা খানম বলেন, এক লাফে গৃহকর কত বাড়ানো যায়? আগের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিন গুণ হতে পারত। কিন্তু এখন প্রায় ১০ গুণ বাড়তি গৃহকর দাবি করা হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

চার শতক জায়গার ওপর নগরীর মাস্টারপুলে দোতলা বাড়ি রয়েছে আবু তৈয়বের। দোতলা মিলে মোট ফ্ল্যাট তিনটি। দোতলার পুরো ফ্ল্যাটে (১ হাজার ৭০০ বর্গফুট) তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। নিচতলার ৮৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট থেকে ৮ হাজার টাকা ও ৪২৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট থেকে ৪ হাজার টাকা ভাড়া পান। এত দিন স্থাপনার আয়তনের ভিত্তিতে (বর্গফুট হিসাবে) দোতলা বাড়িটির জন্য সিটি করপোরেশনকে বছরে কর দিতেন ২ হাজার ৮০০ টাকা। নতুন নিয়মে ওই দোতলা বাড়ির জন্য কর দিতে হবে প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

তার অভিযোগ, শহরের একটি বড় অংশ বৃষ্টির সময় পানিতে ডুবে থাকে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট নষ্ট। অনেক জায়গায় সড়কবাতি নেই। এসব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারলেও সিটি করপোরেশন কর আদায়ে কঠোর ভূমিকা পালন করছে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মোহাম্মদ মনজুর আলমের সময় স্থাপনার আয়তনের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করা হয়। বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন দায়িত্ব নেয়ার পর এ পদ্ধতি বাতিল করে ‘ভাড়ার ভিত্তিতে’ কর নির্ধারণের উদ্যোগ নেন। নতুন নিয়মে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে প্রস্তাবিত বার্ষিক কর নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫১ কোটি ৩০ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫৯ টাকা।

পুরনো নিয়মে গত বছর করপোরেশন কর পেয়েছে ১০৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। যদিও পাওয়ার কথা ছিল ৩৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সব হোল্ডিং (গৃহ) থেকে কর আদায় সম্ভব না হওয়ায় লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি সিটি করপোরেশন।

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, গৃহকর নিয়ে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণে নগরবাসীর মনে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। মূলত সরকারি প্রজ্ঞাপনমতে গৃহকর নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে আমার কোনো এখতিয়ার নেই। অতীতে যেভাবে গৃহকর আদায় করা হয়েছিল তা সঠিক ছিল না। তার পরও করের অংক বেশি মনে হলে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

সিটি করপোরেশন করবিধি অনুযায়ী পাঁচ বছর পর পর কর পুনর্মূল্যায়ন করতে হয়। ২০ আগস্ট সিটি করপোরেশনের ২৫তম সাধারণ সভায় কর পুনর্মূল্যায়ন অনুমোদন দেয়া হয়। কর পুনর্মূল্যায়ন শেষে করপোরেশন এলাকায় হোল্ডিং সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ২৪৮টি। এর মধ্যে নতুন হোল্ডিং ২৮ হাজার ৭০২ ও পুরনো ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৪৫টি।

সূত্র: বনিক বার্তা

মন্তব্য করুন

comments