চট্টগ্রাম আদালত এজলাসে হামলা : তিন জঙ্গির কারাদণ্ড

36
শেয়ার

চট্টগ্রাম আদালতে এক যুগ আগে দুই বিচারকের এজলাসে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন জেএমবির জঙ্গিদের বোমা হামলার পৃথক দুটি মামলার রায়ে পলাতক জেএমবি নেতা ‘বোমা মিজানসহ’তিন জঙ্গিকে সাত বছর করে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত মহানগর মুখ্য হাকিম মো. সাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া এ রায় দেন। একই রায়ে আসামিদের দুইটি মামলায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন।

দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত তিন জঙ্গি হলেন জেএমবি চট্টগ্রামের সাবেক কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ওরফে মোহাম্মদ, শাহাদাত আলী ও জেএমবির বোমা তৈরির কারিগর জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান। রায়ের সময় কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ওরফে মোহাম্মদ ও শাহাদাত আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

অন্য আসামি জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজানকে সাড়ে তিন বছর আগে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় অন্য জঙ্গিরা। এরপর তাকে আর গ্রেপ্তার করা যায়নি। এ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি সাইফুন নাহার খালেক বলেন, হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দুই মামলায় তিন আসামির প্রত্যেককে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে রায়ে। দুই মামলার সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম আদালত ভবনে দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এবং মহানগর হাকিম আকরাম হোসেনের এজলাসে জঙ্গিরা বোমা ছুড়ে মারে। হামলার সময় বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন ও আকরাম হোসেন এজলাসেই ছিলেন। তবে বোমাগুলো বিস্ফোরিত না হওয়ায় কেউ হতাহত হননি।

হামলার পরপরই পুলিশ ও আইনজীবীরা ধাওয়া করে আবদুল মালেক লাল্টু ও শাহাদাত আলী নামে দুই জঙ্গিকে ধরে ফেলেন। পুলিশ ওইদিনই নগরীর কোতোয়ালি থানায় দুটি হত্যাচেষ্টার মামলা করে। জেএমবি নেতা জাবেদ ইকবাল, আবদুল মালেক লাল্টু, শাহাদাত আলী, বোমা মিজান, শায়খ আবদুর রহমান ও আতাউর রহমান সানিকে সেখানে আসামি করা হয়।

মামলার বিচার চলাকালেই লাল্টুর মৃত্যু হয়। অন্য মামলায় শায়খ আবদুর রহমান ও আতাউর রহমান সানির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তাই এ দুটি মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়।

২০০৭ সালের ২৫ জুলাই দুই মামলায় অভিযোগ গঠনের পর ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। একটি মামলায় ১৮ এবং অন্য মামলায় ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ রায় দেয়া হল।

মন্তব্য করুন

comments