জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবীতে এক্সেস রোড়ের ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসীর মানববন্ধন

51
শেয়ার

জলাবদ্ধতার কারণে অসহনীয় দুর্ভোগ নিরসনে এবং ভাঙ্গা রাস্তার সংস্কারের দাবিতে চট্টগ্রামের এক্সেস রোড়ে মানববন্ধন করেছেন সেখানকার ব্যাবসায়ী এবং এলাকাবাসী সহ সর্বস্তরের জনগণ। সকাল সাড়ে ১০ টায় নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে সড়ক ডুবে যাবার জন্য সিটি কর্পোরেশনের মহেশখাল খুলে দেয়ার অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তকেও দায়ী করেন এলাকাবাসী।

চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম একটি ব্যস্ততম সড়ক হলো এক্সেস রোড়।এই রাস্তাটির এখানে সেখানে খানা খন্দের কারনে এই এলাকার ব্যাবসায়ী এবং এলাকাবাসীর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দীর্ঘদিন যাবত।কোমলমতি স্কুল ছাত্র এবং ছাত্রীদেরও পোহাতে হচ্ছে দারুন ভোগান্তি। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস সড়কের নিত্তনৈমত্তিক চিত্র এটি। ভাঙ্গা সড়কের কারণে ভোগান্তি এখানে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী।

এসময় ইউনিক ফার্ণিচার লিমিটেডের কর্ণধার এবং চট্টগ্রাম ফার্ণিচার মালিক সমিতির বিভাগীয় সভাপতি জনাব এস এম নুরুদ্দিন বলেন, ” আর কতদিন আমাদের এই ভোগান্তি পোহাতে হবে, জলাবদ্ধতা এবং ভাঙ্গা সড়কের কারণে এলাকার ব্যবসায়ীদের ব্যবসা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং এলাকার প্রায় প্রতিটা স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।ভাঙ্গা রাস্তার কারণে প্রায় প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে।” এসময় তিনি সড়ক অতিসত্ত্বর সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আহবান জানান।

চট্টগ্রামের ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে আগ্রাবাদ থেকে হালিশহর, নয়াবাজার, সাগরিকা, অলংকার মোড়, এ কে খান গেট হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আসা-যাওয়া করা যায়। এই এলাকায় রয়েছে ৩০ টিরও বেশি ফার্ণিচারের শোরুমসহ অসংখ্য ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে আছে হাজারো শ্রমিক।বর্তমানে এ সড়ক জলাবদ্ধতা এবং ভাঙ্গা রাস্তার কারণে দুর্ভোগ দুর্দশার অন্যতম কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে।পারতপক্ষে কেউ এই রোড় মাড়ায়না ভোগান্তির কারণে।বর্ষার মৌসুম এলে পানির নীচে তলিয়ে যায় বেশীরভাগ দোকান।চট্টগ্রামের ফার্নিচার ব্যবসার প্রানকেন্দ্র হিসেবে খ্যাত এ রোড়টি গত ৪ মাস ধরে দুর্দশাগ্রস্থ।জলাবদ্ধতা ও জোয়ারের পানির কারণে ব্যবসা-বানিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা।সামান্য বৃষ্টিতেই কোমর পানিতে তলিয়ে যায় পুরো সড়ক। অচল হয়ে পড়ে যান চলাচল। বন্ধ হয়ে যায় স্কুল, কলেজ।

সড়কের এ বেহাল দশার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে এক্সেস রোড ব্যবসায়ী সমিতি। পরে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী, মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধনে অংশ নেন। তাদের অভিযোগ, সড়কটি দিনে দু’বার জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এর বিভিন্ন স্থানে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। খানা-খন্দে ভরে গেছে সড়কের চারপাশ। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। মন্দাভাব দেখে গিয়েছে ব্যবসায়।

তবে দ্রুতই রাস্তাটি সংস্কার করে তা চলাচলের উপযোগী করা হবে বলে জানালেন সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা সিটি মেয়র।

মন্তব্য করুন

comments