মিরসরাইয়ে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

30
শেয়ার

মীরসরাইয়ে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৯নম্বর মীরসরাই সদর ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম গড়িয়াইশ গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আক্তারকে নির্যাতনের অভিযোগে ওই গৃহবধূ বুধবার রাতে মীরসরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (নম্বর-২০৭) দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৬ বছর পূর্বে করেরহাট ইউনিয়নের ঘেড়ামারা আদর্শ গ্রামের ফয়েজ আহম্মদের কন্যা ফারজানা আক্তারের সঙ্গে মীরসরাই সদর ইউনিয়নের মধ্যম গড়িয়াইশ গ্রামের শরআলী ভূঁইয়া বাড়ির মাহবুল হকের পুত্র নজরুল ইসলাম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে দেড় লাখ টাকা দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে আরো টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্র বাবার বাড়ি থেকে আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালায়। ইতিপূর্বে পারিবারিকভাবে কয়েকদফা বৈঠক বসে।

সর্বশেষ গত ১৭ই সেপ্টেম্বর মীরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন ও সঙ্গীয় ফোর্স ফারজানার স্বামীর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমঝোতা করে দেন। কিন্তু পরদিন ১৮ই সেপ্টেম্বর শ্বশুর বাড়ির লোকজন ফারজানাকে নির্যাতন করেন।

১৯শে সেপ্টেম্বর মধ্যম গড়িয়াইশ এলাকার ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম ও সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ছখিনা বেগম উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকে মিলিত হন। তবে সালিশি বৈঠকে কোনো সুরাহা না হওয়ায় গ্রাম্য আদালতে ইউনিয়ন পরিষদে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়া হয়। ২০শে সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করার জন্য গেলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমরান উদ্দিন ও ইউপি সদস্য আলম ফারজানাকে থানার শরণাপন্ন হওয়ার জন্য বলেন। তারই প্রেক্ষিতে ফারজানা বাদী হয়ে মীরসরাই থানায় শাশুড়ী ছেমনা খাতুন, দেবর জাকির হোসেন, ননদ সুমি আক্তার, স্বামীর বড় বোন ফরিদা বেগম, রাফেয়া আক্তার, সাজেদা আক্তার ও মর্জিনা আক্তারকে বিবাদী করে অভিযোগ দায়ের করেন।

নির্যাতিত গৃহবধূ ফারজানা আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকে প্রায় সময় বিভিন্ন অজুহাতে আমাকে শ্বশুর পক্ষের লোকজন শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। যতই দিন যাচ্ছে ততই নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে থানার শরণাপন্ন হই। শ্বশুর পক্ষের লোকজন আমি মামলা করলে আমাকে হত্যার হুমকি দেন। বর্তমানে আমি আমার ২ সন্তান নিয়ে বিপাকে আছি। মীরসরাই থানার ওসি (তদন্ত) তমিজ উদ্দিন বলেন, ফারজানার দেয়া লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

comments