X

পটিয়ায় আরো ১১৫ জন রোহিঙ্গা আটক

পটিয়ায় নারী পুরুষ শিশুসহ মোট ১১৫ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে পটিয়া থানা পুলিশ।গত রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মোট ১০৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে রোববারে পটিয়ার খরনা এলাকা থেকে একই পরিবারের ১২ রোহিঙ্গা নাগরিককে প্রথম আটক করা হয়।

আটক রোহিঙ্গাদের মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি। এদের মধ্যে কিছু মিয়ানমারে স্কুল-মাদ্রাসার ছাত্র ছিল। এসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশির ভাগ মিয়ানমার এলাকার আরাকান রাজ্যের মংডু, বুচিদং, মরেলা, আলিসং, তাইযুং, পাদকং থানার সপরিবারের লোকজন।পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন এবং পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নেয়ামত উল্লাহ যৌথ উদ্যোগে রোহিঙ্গা নাগরিকদের আটকের পর রাত, সকাল এবং দুপুরে খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা ও ঔষুধসহ শুকনো খাবার দিয়ে কক্সবাজার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

মিয়ানমার সরকারের অমানবিক অত্যাচারে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শুরু হওয়ার পর থেকে এই পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলার মহানগর ও ১৫ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ২৬৯ জন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পাঠিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ বাসস কে জানান, ‘মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়ছে। সরকার তাদের তালিকা করার ব্যবস্থা করেছে। পটিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ১০৩ রোহিঙ্গাকে প্রথমে থানায় এনে একত্রিত করা হয়। তাদের খাদ্য ও চিকিৎসা প্রদানের পর বাসে করে কক্সবাজার উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। রোববারও একই পরিবারের ১২ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে উখিয়া ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। ওই রোহিঙ্গা পরিবারটির কর্তা আবু তাহের কক্সবাজার থেকে পালিয়ে এসে পটিয়ায় এক আত্মীয়ের বাসায় গোপনে আশ্রয় নিয়েছিলেন।’ কক্সবাজার থেকে পটিয়া হয়ে রোহিঙ্গাদের সহজে চট্টগ্রাম শহরে ঢুকে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে এমন মন্তব্যের জবাবে ওসি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে খুবই সজাগ। রোহিঙ্গারা যাতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে বিষয়ে পটিয়া পুলিশ প্রশাসন সক্রিয়। পটিয়ার চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যরা তীক্ষ নজরদারিতে রয়েছে।’

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে উখিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা যাতে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় ২৭টি চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া জেলার কোথাও রোহিঙ্গাদের পাওয়া গেলে তাদের খাবার ও প্রয়োজন হলে চিকিৎসা দিয়ে উখিয়ার শরণার্থী ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করার জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments