ডাকাতির প্রস্তুতির সময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী টেম্পুসহ গ্রেফতার ৬

80
শেয়ার

ডাকাতির প্রস্তুতির সময় তালিকাভুক্ত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ইসমাঈল হোসেন ওরফে টেম্পুসহ তার ৫ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে পাঁচলাইশ থানাধীন হিলভিউ আবাসিক এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ২টি এলজি, ৪ রাউন্ড কার্তুজ, ২টি ছোরা ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়। এসআই নুরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতার হওয় অপর ৫ জন হলেন-লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা কবির আহমেদের ছেলে জাহেদ হোসেন মুন্না (২৬), চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সি বাজার গ্রামের মাস্টার বাড়ির আব্দুল হালিমের ছেলে সোহেল (১৯), সন্দ্বীপ উপজেলার মগমারা গ্রামের রওশন আলীর ছেলে মো. রবিউল ওরফে মানিক (৪০), নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার তোফাজ্জল কোম্পানির বাড়ির শাহ আলমের ছেলে ইলিয়াছ কাঞ্চন (৩০) ও চান্দগাঁও এলাকার মনু সওদাগর বাড়ির মৃত সেকান্দারের ছেলে মো. তৌহিদ (২৯)।

এসআই নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ইসমাঈল হোসেন ওরফে টেম্পু তার ৫ সহযোগীকে নিয়ে হিলভিউ এলাকায় ডাকাতির করতে গেছেন এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমরা তাদেরকে গ্রেফতার করি। তাদের কাছ থেকে ২টি এলজি উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, ‘ইসমাঈলের নামে নগরীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩০টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

এক সময় ছিলেন পাড়ার ছিঁচকে মস্তান, পরে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে আস্তে আস্তে হয়ে উঠেন ভয়ংকর ছিনতাইকারী; কথায় কথায় গুলি করাও তার অভ্যাস। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত টেম্পু দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। টেম্পুর বিরুদ্ধে নগরীর চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, বায়েজিদ বোস্তামী ও জেলার হাটাহাজারি থানায় টেম্পুর বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা আছে বলে পুলিশের তথ্য।

টেম্পু পুলিশকে জানায়, তার বাবা ছিলেন টেম্পু চালক। বাবার সাথে টেম্পুতে কাজ করায় তার নাম হয়ে যায় টেম্পু। যে নামে তিনি সবার কাছে পরিচিতি পায়। তারা চার ভাইয়ের সবাই ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত।

২০০৭ সালে খতিবের হাট ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করত সে। পরে সে একটি দল তৈরি করে। ওই এলাকায় কেউ বাড়ি করতে গেলে তাদের কোছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করত। টাকার হিসাব না মিললে গুলি করত। অন্তত ১০ বার সে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। ২০১৪ সালে চান্দগাঁও থানার শমসের পাড়া এলাকায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাকে গুলি করে। এর পর থেকে সে ডান পায়ে খোঁড়া অবস্থায় আছে।

প্রায় ১৯ মাস কারাগারে থেকে চলতি বছরের শুরুতে জামিনে ছাড়া পায় টেম্পু। তারপর সে আবারও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ে।

টেম্পু পুলিকে আরও জানান, সে ও তার সহযোগী সোহেল বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, সুযোগ পেলেই ছিনতাই করে।

মন্তব্য করুন

comments