X

বাবাকে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা; মা ছেলে সহ গ্রেফতার ৫

চট্টগ্রামের সদরঘাট থানাধীন পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকায় তৈয়ব আলী নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধীকে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টার সময় ধরা পড়েছে তার ছেলে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই যুবকের মা ও খালাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।খুনের শিকার তৈয়ব আলীর লাশ পুলিশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।

গ্রেফতার ব্যাক্তিরা হলেন-নিহত প্রতিবন্ধির ছেলে মো. সোহেল (২০), তার মা কোহিনূর বেগম (৪০), খালা জাহানারা বেগম (৪২) এবং সোহেলের লাশ গুমের চেষ্টায় সহযোগিতাকারী রিকশাচালক।পাশাপাশি এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোহেলের বোন বৃষ্টিকেও(১৭) আটক করেছে পুলিশ।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার রাতে নগরীর সদরঘাট থানার রশিদ বিল্ডিং এলাকা থেকে সোহেল ও রিকশাচালককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে সোহেলের স্বীকারোক্তিতে মাদরবাড়ি টং ফকির মাজার এলাকার বাসা থেকে তার মা ও খালাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল তার বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, শারীরিক প্রতিবন্ধী তৈয়ব বিভিন্ন সময় টাকা-পয়সার জন্য ছেলে ও স্ত্রীকে নির্যাতন করে। শুক্রবার রাতে তৈয়ব আলী বাসায় গিয়ে স্ত্রীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা চায়। এসময় তারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তৈয়ব আলীর সাথে তাদের গভীর রাত পর্যন্ত ঝগড়া হয়।ঝগড়ার এক পর্যায়ে রাত পৌনে ২টার দিকে সোহেল তার বাবাকে কাঠের ব্যাট দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এসময় তার মা কোহিনূর ও খালা জাহানারা গলা টিপে ধরে।ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে সে তার বাবার মুখে বালিশ চাপা দেয় এবং মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য কাঁচি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে । পরে মা ও খালার সহায়তায় লাশটি বস্তায় ভরে রেখে দেয়।

সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সোহেল তার বাবা তৈয়ব আলীকে খুন করে লাশ বস্তায় ভরে রশিদ বিল্ডিং এলাকায় কাভার্ডভ্যান স্ট্যান্ডের বড় নালায় ফেলতে যায়। এসময় এলাকার দারোয়ান নালায় কী ফেলা হচ্ছে জানতে চাইলে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একজন পালিয়ে গেলেও দারোয়ান স্থানীয়দের নিয়ে সোহেল ও রিকশাচালককে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে।

সোহেলের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সে তার বাবার মুখে বালিশ চাপা দেয় এবং মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য কাঁচি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৪০/৫০টি আঘাত করে।পরে মা ও খালার সহায়তায় লাশটি বস্তায় ভরে রেখে দেয়। সোহেল তার এক বন্ধুর পরামর্শে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে শনিবার রাতে রশিদ বিল্ডিং এলাকায় নালায় ফেলতে যায়। তার ওই বন্ধুকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য করুন

comments