নয় মাসের সন্তানকে পাশে রেখে স্বামী স্ত্রীর একসাথে আত্মহত্যা

273
শেয়ার

নয় মাসের পুত্র সন্তানকে ঘুমিয়ে রেখে চট্টগ্রামের পটিয়ায় শয়ন কক্ষে স্বামী-স্ত্রী আত্মহত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের মধ্যম শিকলবাহা এলাকার মোঃ আবু তৈয়বের ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ আবদুল নবী (২৪) ও তার স্ত্রী মিনা আকতারের (১৯) লাশ উদ্ধার করেছে। স্ত্রী মিনা আকতার সিলিং এর খাঁচা ফ্যানের সাথে ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে এবং স্বামী মোঃ আব্দুল নবী জানালার গ্রিলের সাথে রশি লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ৩নং শিকলবাহার ৩নং ওয়ার্ডের মরহুম আব্বাস আলীর পুত্র আব্দুল নবী প্রকাশ লেদু এবং একই ইউনিয়নের সিপাহী বাড়ী গ্রামের মোঃ কাশেমের কন্যা মিনা আকতার ২ বছর পূর্বে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। তাদের সংসারে নয় মাস বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

সকালে তাদের নয় মাসের পুত্র সন্তান মোঃ শাহেদ হোসেন কান্না করতে থাকলে আশপাশের মানুষ এসে দরজা খোলার চেষ্টা করে। এসময় দরজা খুলতে না পেরে তারা জানালা দিয়ে ঘরের ভিতরে দেখতে পান স্বামী-স্ত্রী দুইজনেই আত্মহত্যা করেছে। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দুপুরে লাশ দু’টি দরজা ভেঙে উদ্ধার করে।বাড়ির মালিক তৈয়ব জানান, ওরা গত ২২শে আগষ্ট ভাড়া নিয়েছিলো রুমটি। স্বামী বাজারে শপিং ব্যাগ বিক্রেতা বলে জানান তিনি।স্বামী-স্ত্রী একই সঙ্গে আত্মহত্যা করার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার শতশত নারী-পুরুষ এক নজরে তাদের দেখতে ভীড় করে।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) জসিম উদ্দিন খাঁন ও পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোঃ নেয়ামত উল্লাহসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। সুরতহাল রির্পোট শেষে ময়না তদন্তের জন্য লাশ চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

মিনা আকতারের পিতা মোহাম্মদ কাশেম জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকে তার মেয়ের জামাই আবদুল নবী প্রায় তার মেয়েকে মারধর করতেন। এ নিয়ে এলাকায় একাধিক সালিশ বিচার পর্যন্ত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিল হওয়ায় তারা দু’জন পুনরায় সংসার করতে রাজি হয়। তবে স্বামীর ছোট ভাই আবদুল নূর জানিয়েছেন, তার ভাবীর কারণে তাদের পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ের পর তারা বাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়িতে চলে যান এবং পরবর্তীতে কোথায় ভাড়া বাসা নিয়েছেন তা তারা জানতেন না।

এ ব্যাপারে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোঃ নেয়ামত উল্লাহ জানিয়েছেন, স্বামী-স্ত্রী দুইজন শয়ন কক্ষে আত্মহত্যার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী-স্ত্রী দু’জনে আত্মহত্যা করেছে। তারপরও লাশ দু’টি মর্গে পাঠানো হয়েছে।তদন্ত চলছে এ ঘটনার পেছনে কোন রহস্য রয়েছে কিনা। ময়না তদন্তের রির্পোট পেলেই আত্মহত্যা না হত্যা তা বুঝা যাবে। থানায় এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments