X

“চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির জন্য হৃদপিণ্ড”

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবিঃ সংগৃহিত

দেশের অর্থনীতির জন্য চট্টগ্রাম বন্দরকে হৃদপিণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

শুক্রবার (০৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ‘পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল’ (পিসিটি) এর ভিত্তি স্থাপন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। পতেঙ্গার বিমানবন্দর সড়কের পাশে আনুষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন করেন মন্ত্রী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একটি নাম। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড। এটি আমাদের উপলব্ধি করার বিষয়।এটি জমাট বেঁধে ছিল, রক্ত সঞ্চালন হচ্ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্দরের হৃদপিণ্ডে অপারেশন করেন, সচল রাখেন।যেমন করে হার্টের অপারেশন করে, বাইপাস করে, রিং বসিয়ে দিয়ে সচল করতে হয়। তিনি প্রমাণ করেছেন রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি দক্ষ ও অভিজ্ঞ। দক্ষ চালকের হাতে যেমন দুর্ঘটনা কম ঘটে তেমনি দক্ষ রাষ্ট্রচালকের ক্ষেত্রেও। রাষ্ট্র যদি দক্ষ পরিচালকের হাতে পরিচালিত হয় সেই রাষ্ট্রে দুর্ঘটনা ঘটে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের মাহাথির মোহাম্মদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক মুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন।পাঁচ বছর আগে সংসদে বলেছিলাম, বাংলাদেশের মাহাথির মোহাম্মদ শেখ হাসিনা। তা আজ প্রমাণিত হয়েছে। এ বন্দরে সিটিএমএস, ভিটিএমআইএস আমরা চালু করেছি। অ্যাম্বুল্যান্স শিপ, বে ক্লিনার আমরা করেছি। ৩৪ বছর মাটির নিচে চাপা থাকা স্লিপওয়ে আমরা কাজে লাগিয়েছি। মোবাইল স্ক্যানিং ভ্যাহিকেল আমরা সংগ্রহ করেছি। কর্ণফুলী ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ নতুনভাবে শুরু করেছি। এনসিটি আমরা করেছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এমএ লতিফ, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান সরকার, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম।

এমএ লতিফ বলেন, বন্দরসংলগ্ন কর্তৃপক্ষের আবাসিক এলাকা কনটেইনার ইয়ার্ড করা হলে দেশের অর্থনীতিতে গতি আসবে। দেশের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে গাফিলতির জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তিনি পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মন্তব্য করেন।

মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান সরকার বলেন, পিসিটির তিনটি কনটেইনার জেটি, একটি ডলফিন জেটি, ৪২০ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার, ছয় লেনের সড়কসহ অবকাঠামো নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা হবে।

তিনি আগামী ১৫ দিনের মধ্য কাজ শুরু করা হবে বলে জানান।

মাহবুবুল আলম বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এগোচ্ছে ১২০ মাইল গতিতে। বন্দরকে এগোতে হবে ১৩০ মাইল গতিতে।

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে তিনটি কনটেইনার জেটি, একটি ডলফিন জেটি, ৪২০ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার, ছয় লেনের সড়কসহ অবকাঠামো নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্য কাজ শুরু করা হবে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

comments