X

পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের নির্মানকাজ শুরু হচ্ছে

ছবিঃ সংগৃহিত

দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য যে হারে বেড়েছে তাতে প্রতি বছর অন্তত একটি টার্মিনাল নির্মাণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন খোদ চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা। কিন্তু বিগত ১০ বছরে নতুন কোন টার্মিনাল নির্মাণ হয়নি।

সর্বশেষ ২০০৭ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)। যন্ত্রপাতি এবং পরিচালন জটিলতার কারণে নির্মাণের প্রায় ৮ বছর পরও সেটি সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। পরে বেসরকারি অপারেটরের মাধ্যমে চালু করলেও রয়েছে যন্ত্রপাতি সংকট। ফলে প্রবৃদ্ধি মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে দেশের প্রধান এই বন্দর।

প্রায় একদশক পর শুরু হচ্ছে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) নির্মাণের কাজ। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে ডিপিএম পদ্ধতিতে কাজ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় পিসিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।

দীর্ঘদিন পর হলেও নতুন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এটির নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পারলে বন্দরের সক্ষমতা কিছুটা হলেও বাড়বে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, দেরিতে হলেও এটি বন্দরের ভাল উদ্যোগ। আমরা চাই নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন হবে। পাশপাশি যন্ত্র সংকট যাতে না থাকে সেজন্য ইয়ার্ড নির্মাণের আগেই যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিমান বন্দর সড়কের বিএএফ শাহীন কলেজ গেইট থেকে জহুরুল হক ঘাঁটি গেইট পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ সড়কটি সোজা করার মাধ্যমে নদীর দিকের জায়গায় গড়ে তোলা হচ্ছে এই টার্মিনাল। এতে সড়ক ও নদীর মধ্যবর্তী স্থানে ২৬ একর জায়গা তৈরি হবে। বর্তমানে এখানে ওমেরা অয়েল কোম্পানির একটি ট্যাঙ্কার, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বেইজ ডিপো রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্পের একটি অফিস ও ডেপুটি কমিশনার অব কাস্টম্সের কার্যালয় (এফ ডিভিশন) এবং কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ি। এসব স্থাপনা সরিয়ে একটি বহুতল ভবনে স্থানান্তর করা হবে।

গত বছর (২০১৬) চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯০৯ টিইইউএস। বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ২০১৫ সালে এ বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ এসেছিলো ১১শ ৯৩টি। আর কন্টেইনার ওঠানামা করেছে ২০ লাখ ২৪ হাজার। এর আগের বছর (২০১৪) জাহাজ এসেছিলো ১ হাজার ৪৭টি এবং কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৭ লাখ ৩১ হাজার কন্টেইনার।

মন্তব্য করুন

comments