শিশুর জীবন বাচাঁতে রক্ত দিলেন ওসি

40
শেয়ার

মঙ্গলবার ২৯ আগস্ট দুপুরে সাতকানিয়া ডায়াবেটিস জেনারেল হাসপাতালে মিনা দাস(১০) নামে এক থ্যালেসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুর জন্য স্বেচ্ছায় রক্ত দিলেন সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল হোসেন।স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অনুচক্রিকা’র সূত্র ধরেই সাতকানিয়া ডায়াবেটিস জেনারেল হাসপাতালে মিনাকে রক্ত দান করেন তিনি।

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু মিনা দাশের শরীর সুস্থ রাখতে তার নিয়মিত দিতে হয় রক্ত।তার বাবা পেশায় একজন মুচি।যার পক্ষে রক্ত জোগাড় করা রীতিমতো দুঃসাধ্য একটা ব্যাপার।

মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক উন্নয়নমূলক অণুচক্রিকা ফাউন্ডেশনের এক সদস্যের ফেসবুক ওয়ালে সাতকানিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুকুমার দাশের মেয়ে থ্যালেসেমিয়া রোগে আক্রান্ত মিনা দাশ (১০) নামের এক শিশুর জন্য রক্তের প্রয়োজন, এমন একটি পোস্ট দেখে তাৎক্ষণিক পার্শ্ববর্তী ডায়াবেটিকস হাসপাতালে ছুটে যান তিনি। রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ায় ওসি শিশুটির জন্য স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।

ওসি মো. রফিকুল হোসেন বলেন, শিশুটি জটিল রোগে আক্রান্ত। নিয়মিত রক্ত দিতে হয়। সুকুমার দাশ মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালের আউটডোরে সকাল থেকে অপেক্ষায় ছিলেন যদি অনুচক্রিকা কোনো রক্তদাতার সন্ধান পান। বিষয়টি ওই সংগঠনের সদস্য মো. এনামুল হক আমাকে জানান। আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রক্ত ম্যানেজ করতে অনুরোধ করি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই হয়নি। যখন জানতে পারি মেয়েটির রক্তের গ্রুপ বি পজেটিভ। তখনি আমি নিজে হাসপাতালে গেলাম রক্ত দিতে।

ওসি বলেন, অনুচক্রিকা ফাউন্ডেশন মফস্বলে থেকেও অসহায় মানুষের জন্য যেভাবে রক্তদাতার খোঁজ করে, রক্ত জোগাড় করে দিয়ে মানুষের উপকার করে তা আমাকে বিস্মিত করেছে।

তিনি আরো বলেন, নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর রক্ত দিলে দাতার কোনো অসুবিধা হয় না। অনেকে ভয়ে রক্ত দিতে চান না। কিন্তু মুমূর্ষু-জটিল রোগীর জীবন বাঁচে। আমি যখন ঢাকায় ছিলাম নিয়মিত রক্ত দিতাম। রক্ত আল্লাহর দান। যতদিন সুস্থ থাকব নিয়মিত রক্ত দিয়ে যাব। মানুষ তো মানুষের জন্যই।

মেয়েকে ওসি রক্ত দেয়ায় খুশি হলেন পিতা সুকুমার দাশ। তিনি বলেন, আমি গরিব লোক। আমার মেয়েটি থ্যালেসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে প্রতি মাসে রক্ত দিতে হয়। কয়েক মাস ধরে অণুচক্রিকা সংগঠনটি আমার মেয়েকে বিনা খরচে রক্ত দেয়ার জন্য কাজ করে আসছে। তাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ওসি সাহের হাসপাতালে এসে আমার মেয়েকে রক্ত দিলেন।

মন্তব্য করুন

comments