চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭০ খাল উদ্ধারের দাবি

42
শেয়ার

জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে ১৯৬৯ সালের ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানে থাকা নগরীর ৭০টি খাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে একটি নাগরিক সংগঠন।

শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানায় ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর নদী ও খাল উদ্ধার নাগরিক আন্দোলন’।

সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প ৩৭ খালের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অবশিষ্ট খালগুলোর কথা নেই। এগুলো চিহ্নিত করতে হবে।৭০টি খাল উদ্ধারের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে এগুলো ছয় থেকে সাত ফুট গভীরতায় খনন করে উভয় তীরে ইটের দেয়াল দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বেদখল হয়ে যাওয়া খালগুলোর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ এবং ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী দখলদারদের উচ্ছেদ করে প্রকৃত অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানায় সংগঠন।

সাংবাদিক সম্মেলনে নাগরিক আন্দোলন কর্মী আলিউর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রাম শহরের ১৯৬৯ সালে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান ও আরএসসিট অনুযায়ী খালের সংখ্যা ৭০টি। আর এসব খালের দৈর্ঘ্য ৩৬৫ কিলোমিটারেরও বেশি। কালুরঘাট ব্রিজ থেকে কর্ণফুলী মোহনা পর্যন্ত ৩৪টি খাল নদীতে মিশেছে। আবার এর মধ্যে ১২ খালের দুই-তৃতীয়াংশ বেদখল হয়ে আছে। সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয় সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান ৩৪ বা ৩৭টি খাল বেদখল ও ভরাটের কথা বলে থাকে।অবশিষ্ট খালের কথা উল্লেখ করেন না।

তিনি আরো বলেন, বেদখল হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি কর্ণফুলী ও সাগরের মোহনায় খালের মুখে স্লুইস গেইট বসাতে হবে। একইসাথে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে খালে পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য ফেলার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ জারি করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম মহানগরীতে টানা দেড় ঘন্টা বৃষ্টিপাত হলেই ৩৮ দশমিক এক মিলিমিটার পানি ওঠে। বৃষ্টিতে পানির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪ কোটি ৫৮ লাখ ঘনফুট। নগরীর ৩৭টি ছোট-বড় খালের পানি ধারণক্ষমতা ১০ কোটি ঘনফুট। বাড়তি চার কোটি ৫৮ লাখ ঘনফুট পানি নিয়েই নগরের জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এসব পানি যথাযথ নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হলে জলাবদ্ধতা কমে আসবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে নগর পরিকল্পনাবিদ আলী আশরাফ, অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

comments