X

অবশেষে টোল মুক্ত হল তৈলারদ্বীপ সেতু

দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম শঙ্খ নদীর তৈলারদ্বীপ সেতু অবশেষে টোল মুক্ত হল। দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবীর প্রেক্ষিতে অবশেষে এ টোল বন্ধ করা হলো। চট্টগ্রাম কক্সবাজারের বিকল্প মহাসড়ক আনোয়ারা বাঁশখালীর সীমান্তে অবস্থিত তৈলারদ্বীপ সেতুর টোল আদায় অবশেষে হাইকোর্ট রিটের মধ্য দিয়ে (২৫ আগষ্ট) শুক্রবার বন্ধ হল। দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর টোলমুক্ত হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।

এর আগে ২০১৫ সাল থেকে প্রতিটি বাস ও সিএনজি অটোরিকশা থেকে ১৫ টাকা করে টোল আদায় করা হতো। বিভিন্ন সময় দেখা যায় ঠিকাদার কতৃক ড্রাইভার হয়রানির অভিযোগ। এক পর্যায়ে অতিরিক্ত টোল আদায় কে কেন্দ্র করে ঠিকাদার ও সিএনজি চলকদের সাথে সংঘর্ষ প্রতিনিয়ত চলতে থাকে। পরবর্তীতে যানবাহন মালিক-শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাহমুদুল ইসলাম সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সিএনজি অটোরিকশার টোল ৮ টাকায় নামিয়ে আনেন।

উল্লেখ্য, শঙ্খ নদীর তৈলারদ্বীপ সেতুর টোল অবৈধ বিবেচনা করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সাবেক সিটি মেয়র আলহাজ্ব মাহামুদুল ইসলাম চৌধুরী। সেই রিটের প্রেক্ষিতে বিচারপতি নাঈম হায়দার ও বিচারপতি এটিএম সাইফুর রহমানের গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ও প্রাক্তন এটর্নি জেনারেল এএফ হাসান আরিফ রিট আবেদন পরিচালনা করেন। তৈলারদ্বীপ সেতুর টোল মওকুফ হওয়ায় শুক্রবার যানবাহন শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, শঙ্খ নদীর তৈলারদ্বীপ সেতু নির্মাণের জন্য দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী আনোয়ারা, চকরিয়া, পেকুয়া, কক্সবাজার, মহেশখালী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনগণের দাবীর প্রেক্ষিতে এই সেতু নির্মাণের জন্য ২০০১ সালের ১৭ ই জানুয়ারী বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিত্তি প্রস্থর স্থাপনের মাধ্যমে কাজের শুভ সূচনা করেন। প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২০০৬ সালের ২৯শে আগষ্ট তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই সেতুর উদ্ভোধন করেন। পরবর্তীতে উদ্ভোধনের পর থেকে এই সেতুর উপর টোল ধার্য্য করা হলেও দিন দিন এই টোল বৃদ্ধি পেতে থাকে।

অথচ শঙ্খ নদীর উপর একই পর্যায়ের আরো ২টি সেতু রয়েছে। সেতু গুরো হল দোহাজারীতে এবং চন্দনাইশ সাতকানিয়ার খোদার হাটে। ওই সব সেতুতে কোন ধরনের টোল আদায় করা না হলেও শঙ্খ নদীর তৈলারদ্বীপ সেতুতে দীর্ঘ সময় ধরে টোল আদায় করা হয়।

এদিকে শঙ্খ নদীর তৈলারদ্বীপ সেতুর টোল আদায়ের ব্যাপারে সাবেক মেয়র মাহামুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বৈদেশিক কোনো সাহায্য ছাড়াই নির্মিত হয়েছিল এই সেতু।সম্পুর্ন জনগণের টাকায় নির্মিত সেতু থেকে পুনরায় ট্যাক্স নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।স্বাভাবিক নিয়মেই এ ব্রীজটিতে কোনো টোল আদায়ের সুযোগ নেই।পরিবহন শ্রমিক ও বাঁশখালীর সাধারণ জনগণের কথা বিবেচনা করে এই রিট করা হয়েছিল। অবশেষে দীর্ঘ সময়ের পর তা বাস্তবায়ন হয়েছে। আশা রাখি সাধারণ জনগণ ও পরিবহন শ্রমিকরা টোল মুক্তের মাধ্যমে উপকৃত হবেন।

মন্তব্য করুন

comments