জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত মানুষ ক্ষমা করবে নাঃ মহিউদ্দিন চৌধুরী

109
শেয়ার
ফাইল ছবি

জলাবদ্ধতা এবং ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটে চট্টগ্রাম নগরবাসীর দুর্ভোগ নিয়ে আক্ষেপের কথা বলেছেন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত মানুষ ক্ষমা করবে না, এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পাশাপাশি নিজেও রাস্তায় নামবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

হজের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ক্ষমতায় যখন আছেন দায়িত্ব পালন করুন। আমার বয়স হয়ে গেছে, তাই মনে করছেন আমার বেইল নাই। শারীরিকভবে অক্ষম হয়ে যাচ্ছি ভাবছেন। সাবধান হয়ে যান। আমি আসার পরে সব অপকর্মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো, প্রতিহত করবো।

শুক্রবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, লজ্জা লাগে, এই শহরের মানুষ, কর্মকর্তা, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সাম্পানে করে চলাচল করতে হচ্ছে। কি যে এক অবস্থা। এক হাঁটু পানি, বুক পর্যন্ত পানি। ছেলেমেয়েদের পায়ে ঘা হয়ে গেছে।

রাস্তাঘাটের করুণ অবস্থা। এটা কি শহর ? যারা আছেন, শুধু বড় বড় কথা বলেন। বড় কথা বলা যাবে, মানুষ কিন্তু ক্ষমা করবে না। আমি নীরব আছি। আমি নীরব আছি বলে মানুষ কিন্তু ক্ষমা করবে না।

মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, উন্নয়নের জন্য নেত্রী প্রচুর পরিমাণে টাকা প্রদান করছেন। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে উন্নয়নের নামে অপকর্ম হচ্ছে।

জলাবদ্ধতা নিয়ে কাজের চেয়েও কথা বেশি হচ্ছে বলে অভিমত মহিউদ্দিন চৌধুরীর।

তিনি বলেন, সারা দুনিয়া আজ হাতের মুঠোয় এসে গেছে। সামান্য জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য এতবেশি লম্ফজম্ফ কেন ? জলাবদ্ধতা, যদি আগ্রহ থাকে, এক সপ্তাহের মধ্যে দূর করা যায়।

চুরি করতে, টাকা বানাতে যদি এক সপ্তাহে পারেন, তাহলে এটা পারবেন না কেন কারও নাম উল্লেখ না করে এই বক্তব্য মহিউদ্দিন চৌধুরীর।

কর্ণফুলী ড্রেজিং ছাড়া জলাবদ্ধতা দূর হবে না বলেও মত দিয়েছেন টানা ১৭ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসা মহিউদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ড্রেজিং ছাড়া হবে না। একবার তো ড্রেজিংয়ের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করে চলে গেছে। ফলে নদী ভরাট হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় ব্লক হয়ে গেছে।

ড্রেজিং মেশিন ইমপোর্ট করেন। ড্রেজিং করলেই পানি চলে যাবে। নালা-নর্দমায় আবর্জনা যেগুলো থাকবে সেগুলো সব পরিস্কার হয়ে চলে যাবে।

কাজটা কঠিন নয়। বাঁধ দেবেন, সেই করবেন, এই করবেন, কত কথা বলছেন, কিন্তু মানুষের কষ্ট সীমার বাইরে। বলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ড্রেজিংটা হোক, আমি চিঠি লিখেছি বন্দরের কাছে। ড্রেজিং মেশিন যেন অল্প সময়ের মধ্যে আনা যায়। ড্রেজিং করলেই আমরা সমস্যা থেকে মুক্তি পাব। এক মুহুর্তে জাহাজ আনতে পারছেন ভাঙাচোরা, সব আনতে পারেন, এটা আনতে পারেন না কেন?

এসময় মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে নগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ, সদস্য এস এম সাঈদ সুমন ও শেখ নাছির উদ্দিন, ন্যাপ নেতা মিটুল দাশগুপ্ত উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ বাংলানিউজ

মন্তব্য করুন

comments