চট্টগ্রামে সড়কে হাট বসতে দেবে না পুলিশ;চাঁদাবাজিতে জিরো টলারেন্স

66
শেয়ার

চট্টগ্রামে সড়কের ওপর পশুর হাট না বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) নুরে আলম মিনা। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক শক্তি, যে কোনো সিন্ডিকেট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কথা জানান তিনি।এসময় কোরবানির গবাদি পশু বহনকারী গাড়িতে পুলিশের চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জেলা পুলিশ লাইন মিলনায়তনে ঈদ সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন এসপি।

সভায়, পশুর হাটে জাল টাকা রোধ,মলম ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা নিরসনে নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন,গরু ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে বিভিন্ন সিন্ধান্তের কথা জানান পুলিশ সুপার।

পরিবহন শ্রমিকদের এক নেতা বলেন, রাস্তায় গাড়ী চালাতে গেলে পুলিশ গাড়ি দাঁড় করিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও চাঁদাবাজি করে থেকে। আমরা অনেক বার এই বিষয় নিয়ে আলোচলা করেছি। কিন্তু কোন সুফল পাচ্ছিনা।

এসময় এই নেতার কথার সুত্র ধরে থানার ওসিদের উদ্দেশ্যে করে পুলিশ সুপার বলেন, কোরবানির গবাদি পশু বহনকারী গাড়িতে পুলিশের চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে। ঈদকে সামনে রেখে গাড়িতে আগে অনেক চাঁদাবাজি হতো। এর মধ্যে অনেক গ্রুপ জড়িত। এটা আমি মেনে নেব না।এসময় বিভিন্ন গরুর বাজারে নিরাপত্তার জন্য আমাদের সাদা পোশাকে পুলিশ, ডিএসবির টিম থাকবে। আমাদের নিজস্ব গোয়েন্দা থাকবে। আপনাদের সবার কাছে মোবাইল আছে। কেউ চাঁদা দাবি করেলে আমাদের জানান।

এস পি বলেন ,পুলিশের কাছে গোপন তথ্য থাকলেই কেবল রাস্তায় কোরবানির পশু বহনকারী পরিবহন থামিয়ে তল্লাশি করা যাবে। তবে কোনো গোপন তথ্য ছাড়া কোরবানির পশু বহনকারী গাড়ী তল্লাশি করা যাবে না।

তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় গরু বহনকারী গাড়িতে গোপনে মাদক দ্রব্য পাচার করা হয়। এতে করে পুলিশে চোখকে ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের চালান পাস করে দেয়। মায়ানমার কিংবা টেকনাফ থেকে গবাদি পশু নিয়ে ট্রাক আসবে, সেই ট্রাকে যদি মাদক কিংবা এক্সক্লুসিভ কোন তথ্য থাকে তাহলে এএসপি এবং ওসির নেতৃত্বে টিম সেটা থামাবে। কোন ধরনের হয়রানি না করে তল্লাশি করা হবে।

কোনো কাজে যাতে হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ ও সিএমপির মধ্যে কোন জটিলতা তৈরি না হয় সেদিকে সমন্বয় করে কাজ করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।

সভায় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি নিরুপম দাশগুপ্ত, সিসিএলের পরিচালক শ্যামল পালিত, সড়ক পরিবহন সভাপতি মনজুরুল আলম ও আবুল কালাম আজাদ বক্তব্য দেন।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একেএম এমরান ভূঁইয়াও উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময়ে সাংবাদিক, পরিবহন শ্রমিক নেতারা অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

comments