চট্টগ্রামে ঈদে মাঠে থাকবে অতিরিক্ত ২০০০ পুলিশ

42
শেয়ার

ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট, ঈদের জামাত, চামড়া বিক্রিসহ বিভিন্ন কাজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানা ও ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের বাইরে অতিরিক্ত দুই হাজার পুলিশ সদস্য মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার।

এই অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ৪০০ জন পশুর হাটে, ২০০ জন বাস-রেলওয়ে স্টেশনে, ঈদের জামাতে ৬০০ জন এবং চামড়া বাজারকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ৪০০ জন থাকবেন বলে জানান পুলিশ কমিশনার।

মঙ্গলবার দুপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পশু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিফ্রিং করার সময় এ কথা জানান তিনি। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা পৃথকভাবে ঈদের আগের পশুর হাট, বাস-রেলওয়ে স্টেশন ও লঞ্চঘাট এবং ঈদের জামাত, ঈদের পরে চামড়া বিক্রি ও বিনোদন পার্কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, নগরীতে ৩৬৮ স্থানে ঈদের জামাত হবে। এর মধ্যে ৩৭টিকে কেন্দ্রীয়ভাবে সাদা ও পোশাকি পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা দেবেন। বাকিগুলোতে মোবাইল ও প্যাট্রল টহলের দায়িত্বে থাকা সদস্যরা নিরাপত্তা দেবে। ঈদের জামাত কেন্দ্রিক অতিরিক্ত ৬০০ পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে।প্রতিটি পশুর হাটে আমাদের একটি কন্ট্রোল রুম থাকবে। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। সিটি করপোরেশন পশুর হাটের জন্য যে চৌহদ্দি ঠিক করে দিয়েছে এর বাইরে পশু বিক্রির জন্য বসানো যাবে না। এছাড়া যে হাটে পশু বিক্রি করতে আগ্রহী, সেই হাটে ট্রাকে করে পশু নিয়ে যাওয়ার সময় ট্র্রাকের সামনে ওই পশুর হাটের নাম লিখে দিতে হবে। ফলে তাদের নির্বিঘ্নভাবে সেই হাটে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া আমরা ব্যবসায়ীদের বলে দিয়েছি পশু হাটকেন্দ্রিক যে খাবারের দোকানগুলো বসবে সেই দোকানগুলোতে যাতে অচেতন করা কিংবা অন্য কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে খাবার সরবরাহ করা না হয়।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে নিজেদের হাটে পশু নামানোর জন্য বিভিন্ন পশুবাহী গাড়িকে পথে আটকিয়ে ফেলেন, টানাহেঁচড়া করেন, এ রকম কোনো কিছু হলেই আমরা ব্যবস্থা নেব। জাল টাকা চিহ্নিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বুথ থাকবে। পাশাপাশি সেখান থেকে টাকা উঠানো, জমা দেয়া যাবে। এ ছাড়া প্রতিটি পশুর হাটে কোন পশুর জন্য কত হাসিল নির্ধারণ করা হয়েছে তা হাটের একাধিক স্থানে প্রকাশ্যে টাঙিয়ে রাখতে হবে। এসব নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আমাদের অতিরিক্ত ৪০০ পুলিশ সদস্য পশুর হাটে নিয়োজিত থাকবেন।’

তিনি বলেন, ঈদের দিন থেকে শুরু হবে চামড়া বিক্রি। নগরীর ৫৪ স্থানে চামড়া বিক্রি হবে। চামড়া যাতে কোনোভাবে পাচার না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা হবে। চামড়া বিক্রি কেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ৪০০ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া ঈদ ও ঈদের পরবর্তী কয়েক দিন বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে মানুষে ভিড় থাকে। এক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় সে লক্ষ্যে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ৩০০ সদস্য নিয়োজিত থাকবে।অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা পৃথকভাবে ঈদের আগের পশুর হাট, বাস-রেলওয়ে স্টেশন ও লঞ্চঘাট এবং ঈদের জামাত, ঈদের পরে চামড়া বিক্রি ও বিনোদন পার্কে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে।

মন্তব্য করুন

comments