X

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়কের ৭ কিলোমিটার চার লেন হবে-মেয়র নাছির

ছবিঃ আর্কাইভ

চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যনক্রম গতিশীল করা এবং বিমানবন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্ট এলাকার যাত্রী সাধারণের জন্য চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ৭ কিলোমিটার সড়ক চার লেইনে উন্নীত করা সময়ের দাবি বলে মনে করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

মেয়র বলেন, শাহ আমানত বিমান বন্দরে নেমে যখন কেউ বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে আসতে থকেন, তখন যে চিত্রটা দেখে সেটাই তার মাইন্ডসেট হয়ে যায়। আর সেই চিত্রটি সুখকর না হয়ে তৈরী হয় একটা খারাপ ইমপ্রেশান। তাই ভালো ইমপ্রেশান তৈরী করার জন্য বিমানবন্দর সড়কটিকে চারলেনে করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশস্ত করা হবে এই সড়ক।

গতকাল সোমবার দুপুরে নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিমানবন্দর সড়কের ২৪টি প্রতিষ্ঠান-স্থাপনার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

৮ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট বিমানবন্দর সড়কটির প্রশস্থকরণ প্রকল্পের শিরোনাম ‘এক্সটেনশন অব এয়ারফোর্ট রোড’।সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁরা সম্ভাব্য সব সহযোগিতার আশ্বাস দেন।পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ‘এক্সটেনশন অব এয়ারপোর্ট রোড'(বিমানবন্দর সড়ক প্রশস্তকরণ) শীর্ষক প্রকল্পটি নিয়ে কথা বলেন মেয়র।

যানজটের জন্য বহুল আলোচিত ৮ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি প্রশস্থকরণের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে নগরীর সিমেন্ট ক্রসিং হতে রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি হয়ে বাটারফ্লাই পার্ক পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়ক (রিভার সাইড অংশ) চার লেনে উন্নীতকরণ বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। আর ড্রাই ডক লিমিটেড থেকে বোট ক্লাব পর্যন্ত ১ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার ছয় লেনে উন্নীতকরণ বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম বন্দর। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ডিজিটাল সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে প্রবেশে ভয়াবহ যানজট থেকে বিদেশী নাগরিক, প্রবাসী, ব্যবসায়ীবৃন্দ এবং সর্বোপির নগরবাসী মুক্তি পাবে। সাথে সাথে বিশ্বের কাছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে।

মেয়র বলেন, বর্তমানে সড়কটি ইউনিফাইড ফর্মে নেই। কোথাও সরু, কোথাও প্রশস্ত। যানজটে গাড়ি আটকা থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। তাই আমাদের চিন্তা এ সড়কটিকে চারলেন করার সিমেন্ট ক্রসিং থেকে কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘেঁষে বাটার ফ্লাই পার্ক পর্যন্ত ৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার শাহ আমানত বিমানবন্দর সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। এর মধ্যে ১ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।বাটারফ্লাই পার্ক থেকে পতেঙ্গা সৈকত হয়ে একটি বড় সড়ক থাকার পরও নদী পাড়ের সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, পতেঙ্গার ওই পথে টানেল যাচ্ছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যাবে, আউটার রিং রোড যাবে। সে ক্ষেত্রে আমরা মনে করি নদী পাড়ের সড়কটি বিমানযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এটি অনেক বেশি দৃষ্টিনন্দন হবে।

বিমানবন্দর সড়ক এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের জায়গা নিয়ে প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা রয়েছে। এসকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিএসসি গ্রেইন কনভেইয়ার, ফুড মিনিস্ট্রি অব চিটাগাং (সেইলো), টিএসপি কমপ্লেক্স, ইলিয়াস ব্রাদার্স, ওয়েল রিফাইনারি (ভোট), আবুল খায়ের গ্রুপ, যমুনা ওয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, সাউথ ইস্টার্ণ ট্যাংক টার্মিনাল, স্টান্ডার্ড এশিয়াটিক ওয়েল কোম্পানি, এমজেএল বাংলাদেশ, ড্রাই ডক, বাটারফ্লাই পার্ককে জায়গা ছাড়তে হবে।

কখন কাজ শুরু হবে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘কোন প্রতিষ্ঠানের কত ক্ষতি হবে তা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আমরা চেষ্টা করবো যৌক্তিক সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে। এ রাস্তাটি চার লেনে উন্নীত করতে কোন প্রতিষ্ঠানের কত জায়গা দরকার; তা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। তবে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করতে এক-দেড় বছর সময় লাগবে। প্রকল্প অনুমোদনের পর তা বাস্তবায়ন করতে এক বছর সময় লাগবে। আড়াই বছরের মধ্যে আমার মেয়াদের সময়ের ভিতর আমরা বিমানবন্দর সড়কের চার লেন কাজ শেষ করতে পারবো।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘এটা আমাদেরকে করতেই হবে। এর বিকল্প নেই। কাজটা ভবিষ্যতের জন্য ফেলে রাখার সুযোগ নেই। এখন না করতে পারলে আর কখনো এই কাজ করা সম্ভব হবে না। সিমেন্ট ক্রসিং থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত রোডে বন্দরের ইজারা দেওয়া সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনা রয়েছে। এগুলো অপসারণ করতে হবে।’

মন্তব্য করুন

comments