X

মায়ের হাতে নির্যাতিত শিশুটি থাকতে চায়না মায়ের সাথে

ছবিঃ সংগৃহিত

নিজের মায়ের হাতে নির্যাতিত হয়ে চাচী রুমা আক্তারের ঘরে ঠাঁই নেওয়া সামদানকে নিয়ে চট্টগ্রাম আদালতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে শিশুটিকে নগরের মোহাম্মদপুর এলাকার চাচির বাসা থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।। থানায় বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল শিশুটি। তার একটাই কথা, সে মায়ের কাছে যাবে না, চাচির সঙ্গে থাকবে। সবাই আট বছরের শিশুর এমন আচরণে হতবাক।

এসময় থানায় তার মা ও চাচি দুজনই ছিলেন। গতকাল বুধবার দুপুরে বাধ্য হয়ে শিশুটিকে আদালতে হাজির করা হয় বলে জানান পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কাশেম।

কিন্তু মাকে নিয়ে শিশু সাদমানের কেন এই আতংক? পুলিশ এবং আদালতে জবাবও দিয়েছে সাদমান। যৌথ পরিবারে ঝগড়ার জেরে মুখের উপর বালিশ চেপে ধরে মা এই শিশুটিকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। এই নির্মম অভিজ্ঞতার কথা সাদমান নিজের মুখে জানিয়েছে। সে জানায়, আমার মা প্রথমে আমার পেটে তিনটা লাথি মারে। এরপর আমাকে বালিশ দিয়ে চাপা দেয়। আমার আপু (চাচাতো বোন) এসে আমাকে বাচায়।

শিশুটির মা আদালতকে বলেন, সন্তানকে কেবল শাসন করেছেন তিনি। আদালতের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর জা শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজের কাছে রেখে দিতে চান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাদমান নগরীর পাঁচলাইশ থানার মোহাম্মদপুর এলাকার গাউছিয়া বাড়ির ওবায়দুল্লাহ আল মামুন এবং আইরিন আক্তার সুপ্তার ছেলে। সৌদিআরবে থাকেন মামুন। তার আরও দুই সন্তান আছে। দেড় মাস আগে শিশুটি চন্দনাইশ থেকে চাচির সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরে বেড়াতে আসে। এরপর আর সে মায়ের কাছে ফেরেনি।

মামুনের স্ত্রী সুপ্তা তিন সন্তান নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। যৌথ পরিবারে ঝগড়ার কারণে গত জুনে সুপ্তা সাদমানকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে বাবার বাড়ি চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারিতে চলে যান।

পাঁচলাইশ থানার এসআই আবুল কাশেম জানান, গত ৩১ জুলাই সাদমান স্কুলে যাবার সময় তাকে জোর করে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যেতে চেয়েছিল সুপ্তা। এসময় সাদমানের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছেলেধরা ভেবে সুপ্তাকে ধরে ফেলে। তখন সুপ্তার শ্বশুর রশিদ আহম্মদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুপ্তাকে ছাড়িয়ে নেন এবং সাদমানকে বাড়ি নিয়ে যান। কিন্তু সুপ্তা আবার থানায় এসে তার বাচ্চাকে উদ্ধার করে দেয়ার জন্য আবেদন করেন।

বুধবার পুলিশ শিশুটিকে আদালতে হাজিরের পর তার মা এবং চাচী উভয়ে তাকে জিম্মায় নেয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ পারভেজ শিশুটিকে তার চাচির জিম্মায় দেন। একই সঙ্গে আদেশে বলেন, মা যখনই চাইবেন, তখনই শিশুটির সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।

শিশুটির চাচি রুমা আক্তার বলেন, সাদমান এতদিন আমার কাছেই ছিল। আমি কখনো তাকে আমার জায়ের ছেলে এটা মনে করিনি। তাকে আমি নিজের সন্তানই জেনেছি। নিজের সন্তানের মতো করেই তাকে মানুষ করব।

এ প্রসঙ্গে, আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, সন্তানের জন্য নিরাপদ স্থান হচ্ছে মায়ের কোল। অথচ আট বছরের এই শিশু সন্তান আদালতে জবানবন্দি দিয়ে জানিয়েছে, সে তার মায়ের কাছে যাবে না। এসময় আদালতও বিস্মিত হয়েছেন। যদিও মা সন্তানকে পাবার হকদার, কিন্তু এই শিশুর নিরাপত্তা এবং তার আকুতি বিবেচনা করে আদালত চাচীর জিম্মায় দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

comments