X

দিনভর যানজটে নাকাল নগরবাসী

ছবিঃ সংগৃহিত

যানজট এখন নিত্যসঙ্গী হয়ে পড়েছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের মানুষের। গতকাল যানজট সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদেরও।

গতকাল বেলা ১২ টায় কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে বাসে উঠেছিলেন আলি আক্কাস। তিনি তার গন্তব্যস্থল আগ্রাবাদ পৌঁছান বিকেল ৪ টায়। নগরীর কাউন্টার-ভিত্তিক বাস সার্ভিস মেট্রো প্রভাতীর এই যাত্রীর সাথে কথা হচ্ছিল নগরীর বাদামতলী মোড় এলাকায়।

ট্রাফিক পুলিশ সূত্র জানায়, টানা ছুটির শেষে অফিস-আদালত ও স্কুল-কলেজ খোলায় বুধবার নগরীতে ট্রাফিক জ্যাম ছিল বেশী। এছাড়া টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় নগরীর বেশীরভাগ সড়কেরই বেহাল দশা। তাই সড়কে যানবাহনের গতিও ছিল কম।

এদিকে, সাম্প্রতিক বর্ষণে এমনিতেই সড়কে চলতে একদিকে নাগরিকদের নাভিশ্বাস ওঠছে। তার উপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় যানজটে আটকে থাকাতে নগরবাসীকে। অন্য দিকে পথেই নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘণ্টা। পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

বুধবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে বেলা ১১টার দিকে বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে শুরু করে নিমতলা বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ি যেন চলছেই না। যে যেখানে আছেন সেখানেই গরমে যবুথবু অবস্থা। সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের এই পথ পার হতে যানবাহনগুলোর সময় যাচ্ছে অন্তত ১ ঘণ্টা।

এ ছাড়া নগরীর টাইগারপাস থেকে শুরু হওয়া যানজট জিইসি মোড় ছাপিয়ে মুরাদপুর পর্যন্ত, বহদ্দারহাটমুখি সড়কে যানজটে মানুষের নাকাল অবস্থা হলেও জনগণের বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত বহদ্দারহাট ফাইওভার ছিল একেবারেই ফাঁকা। বেলা ১২টার দিকে নগরীর ব্যস্ততম জিইসি মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তায় শুধু গাড়ি আর গাড়ি। কোনো দিকেই কেউ যেতে পারছেন না। জিইসি মোড়ের এই যানজট গিয়ে থেমেছে পশ্চিমে জাকির হোসেন রোডের রেলক্রসিং পার হয়ে আরো পরে।

নন্দনকানন থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার দূরত্ব যেতে যেকোন যান্ত্রিক পরিবহনে সময় লাগে বড়জোর ১৫ মিনিট। গতকাল দুপুরে সিএনজি অটোরিক্সায় এই পথেই লেগেছে ১৫ মিনিট।

বেলা ১১টার দিকে নগরীর চকবাজার মোড় পার হতেই যানবাহনগুলোর প্রতিদিনই যানজটে পড়ে সময় যাচ্ছে প্রায় আধা ঘণ্টার বেশি। কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু থেকে কোতয়ালীর মোড় পর্যন্ত যেতেও দীর্ধ সময় লেগেছে গতকাল। একই অবস্থা ছিল নগরীর নিউ মার্কেট মোড়, বারিক বিল্ডিং হতে কাস্টমস মোড়, চকবাজার, কোতোয়ালি, আগ্রাবাদ, শাহ আমানত সেতু এলাকা, ইপিজেড মোড়, এ কে খান মোড়, অক্সিজেন মোড়সহ বিভিন্ন গলিপথেও। কার্যত, যানজটে স্থবির ছিল গতকালকের চট্টগ্রাম।

জলজট ও ওয়াসার খোঁড়াখুড়ির কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল বিশাল গর্ত। এছাড়া লালখান বাজার – মুরাদপুর ফ্লাইওভার নির্মাণের পর সড়কটি সংস্কার করার কথা ছিল সিডিএর। সেটিও এখনো সম্পন্ন হয়নি।

সমন্বয় ও সঠিক তদারকির অভাবে ক্ষতিগ্রস্থ সড়কগুলো সঠিক সময়ে মেরামত করা যাচ্ছে না। সিডিএ, ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশন এক কর্তৃপক্ষ আরেক কর্তৃপক্ষের উপ্র দায় চাপানোর চেষ্ট করছে। এছাড়া নগরীতে নির্মিত ফ্লাইওভার গুলোও কাজে আসছে না। প্রকৃতপক্ষে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে নেই কোন পরিকল্পনা।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ফাইওভার নির্মাণ যানজটের কোনো সমাধান নয়। ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ছাড়া যানজট নিরসন করা যাবে না। তাদের মতে, যদি বিকল্প সড়ক সৃষ্টি করা না যায় তবে কোনো কাজ হবে না। তা ছাড়া ফাইওভার একবার নির্মাণ করে ফেললে প্রধান সড়কের পরিবহন ব্যবস্থার (এমআরটি) ভবিষ্যৎ প্রয়োজন ব্লক হয়ে যায়।

নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, চট্টগ্রাম নগরীতে বর্তমানে মাত্র একটি রাস্তা রয়েছে। এই একটি রাস্তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরো নতুন রাস্তা করতে হবে। তবেই যানজট নিরসনে কার্যকর সমাধান আসবে।

মন্তব্য করুন

comments