X

২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামে নির্মিত হচ্ছে বে-টার্মিনাল

প্রস্তাবিত বে-টার্মিনাল

চট্টগ্রাম নগরীর কাট্টলী থেকে হালিশহর পর্যন্ত সমুদ্র এলাকাটি বে-টার্মিনালের জন্য উপযুক্ত জায়গা হিসেবে চূড়ান্ত সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে।

এর আগে এক বছর ধরে বে-টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইসহ এর আর্থিক, পরিবেশগত, ভৌগোলিক, সামাজিক দিকসহ সার্বিক বিষয়ের চূড়ান্ত রিপোর্ট চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করা হয়। আর এই টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

এমন তথ্য উঠে এসেছে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিবেদন অনুযায়ী ডিপিপি তৈরীর পাশাপাশি শুরু হয়েছে ভুমি অধিগ্রহণ আর অর্থ যোগাড়ের প্রক্রিয়া।

সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়, ৯০৭ একরসহ প্রায় ২ হাজার একর জমির উপর বে-টার্মিনাল নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে অপারেশনে যেতে প্রায় চারশ কোটি ডলার ব্যয় হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে পতেঙ্গা হালিশহর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উপকূলে বে-টার্মিনাল নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্রেক ও ওয়াটারের জন্য ড্যাম তৈরি করা হবে। দেশে প্রথমবারের মতো ব্রেক ওয়াটারের মাধ্যমে দেশে জেটি তৈরি নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীর কাট্টলী থেকে হালিশহর পর্যন্ত সাগর উপকূলে এই বে-টার্মিনাল নির্মাণে এরইমধ্যে শেষ চূড়ান্ত সম্ভাব্যতা যাচাই। এখন চলছে ভূমি অধিগ্রহণ আর ডিপিপি তবে এজন্য যে ৯০৭ একর জায়গার প্রয়োজন হবে যার মধ্যে ৭০ একর জায়গা ব্যক্তিমালিকানাধীন।

এসব জায়গার বাজার মূল্য দাড়ায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। বন্দর চেয়ারম্যান জানান, ব্যক্তিমালিকানার জমির ক্ষতিপূরণ দিয়ে খাস জমি সরকারের কাছ থেকে নামমাত্র দামে নেয়ার চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, টার্মিনালটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। যাতে বিনিয়োগে আগ্রহী বিভিন্ন পক্ষ।

নানা খাতে এডিবি থেকে নেয়া ২ হাজার কোটি টাকার একটি অংশ দিয়ে নক্সা তৈরী হবে। আর প্রথম পর্যায়ের অবকাঠামো কাজে ভারতীয় ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের বিষয়টিও এগিয়েছে-এমন কথা জানান বন্দর চেয়ারম্যান।

প্রথম ধাপে হবে একটি করে মাল্টিপারপাস আর কন্টেইনার টার্মিনাল। গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত এ কাজ শেষ করার তাগিদ বন্দর সংশ্লিষ্টদের। সব ঠিকঠাক থাকলে মেগা এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবার কথা রয়েছে ২০২১ সালে। বে-টার্মিনাল এলাকায় সমুদ্রের গভীরতা থাকবে ১৩ মিটার। ১৩ মিটার গভীরতার জেটি এলাকায় ১২ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়বে। বে-টার্মিনালের ৩টি টার্মিনাল থাকবে, এর মধ্যে ২টি কন্টেইনার ইয়ার্ড এবং ১টি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল।

হামবুর্গ পোর্ট কনসালটেন্ট (এইচপিসি) সেলহর্ন এবং বাংলাদেশের কেএস নামক প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে তাদের উপস্থাপিত সমীক্ষায় কপার ড্যাম নির্মাণ যৌক্তিক হবে বলে প্রস্তাব করেছে। কপার ড্যাম আর্থিকভাবে যেমন সাশ্রয়ী হবে। একইসাথে প্রায় ১০০ বছরের জন্য নিশ্চিত থাকা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়। সমীক্ষায় জেটির উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০ মিটার উঁচু রাখতে বলা হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ ৯ মিটার পর্যন্ত উঁচু রাখতে চায়। কারণ এক মিটার বেশি উচ্চতার ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে বলে বন্দরের পক্ষ থেকে বলা হয়।

মন্তব্য করুন

comments