X

ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদ উচ্ছেদের দাবি ছাত্রলীগের

ছবিঃ সংগৃহিত

সমাজ কল্যাণের নামে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের চট্টগ্রাম নগর কার্যালয়টি উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ।

নগরীর চকবাজার প্যারেড কর্নারে অবস্থিত ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদ কার্যালয়ের জমির ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্র সংগঠনটির নেতারা।

এদিকে, আগামী সাত দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ-সংলগ্ন ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের কার্যালয়টি উচ্ছেদ করতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে চট্টগ্রাম কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। গতকাল রোববার দুপুর ১২টায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সময় এই সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম কলেজের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে চকবাজার প্যারেড কর্নারে ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের কার্যালয়ের সামনে এসে সমাবেশ করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, ‘সংগঠনটির মাধ্যমে জামায়াত-শিবির নিজেদের ভ্রান্ত মতবাদ ও স্বাধীনতাবিরোধী মতবাদ প্রচার ও প্রসারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সমাজকল্যাণ নামের আড়ালে তারা সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে যাকাত, ফিতরা, কোরবানির চামড়া সংগ্রহসহ দান, ছদকার টাকা সংগ্রহ করে তার পুরো অংশটা জামায়াতে ইসলামীর অপরাজনীতি ও দেশ ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করছে।’

সংগঠনটি যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মাহফিলের আয়োজন করতো জানিয়ে এসময় ছাত্রলীগ নেতারা আগামী সাত দিনের মধ্যে কার্যালয়টি উচ্ছেদের দাবি জানান। অন্যথায় জামায়াতে ইসলামের ষড়যন্ত্র রুখতে তারা নিজেরাই এই কার্যালয়টি উপড়ে ফেলবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।

গতকালের সমাবেশে একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য রুমেল বড়ুয়া, নগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, গোলাম সামদানী প্রমুখ। আরো বক্তব্য রাখেন নগর ছাত্রলীগের উপ প্রচার সম্পাদক আব্দুল হালিম মিতু, চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম এবং মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা কাজী নাইম। ছাত্রলীগের বিবদমান তিন পক্ষের সমর্থকেরা গতকাল যৌথভাবে এই কর্মসূচি পালন করে।

ছাত্রলীগ নেতা রনি বলেন, ‘এখনও সামাজিক কার্যক্রমের আড়ালে নগরীর সবগুলো ওয়ার্ডে তারা মূলত জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে। সরকারি জমি জামায়াত নিয়ন্ত্রিত সমাজকল্যাণ পরিষদ অবৈধভাবে তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।’

ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, ‘কার্যালয়টি জেলা প্রশাসন থেকে লিজ নেয়া জমিতে অবস্থিত। তিন বছর আগে এই জমির ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও প্রশাসন এখনও কার্যালয়টি উচ্ছেদ করেননি।’ তারা চট্টগ্রাম কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের আশপাশে শিবিরের সব অবৈধ প্রতিষ্ঠান ও ব্যাচেলর বাসাবাড়ি উচ্ছেদের জোর দাবি জানান।

মন্তব্য করুন

comments