আগামী ৫ বছরে ৫০ বছর এগিয়ে যাবে চট্টগ্রাম: সিডিএ চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম যানজটমুক্ত, জলাবদ্ধতামুক্ত একটি আধুনিক দৃষ্টিনন্দন নগরীতে পরিণত হবে

94
শেয়ার
ছবিঃ সংগৃহিত

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেছেন, আগামী ৫ বছর পর চট্টগ্রাম ৫০ বছর এগিয়ে যাবে।

তিনি আজ শনিবার দুপুরে নগরীর জিইসি ওয়েল পার্ক রেসিডেন্সে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী ৫ বছর পর চট্টগ্রাম যানজটমুক্ত, জলাবদ্ধতামুক্ত একটি আধুনিক দৃষ্টিনন্দন বাণিজ্যিক নগরীতে পরিণত হবে।

আবদুচ ছালাম বলেন, ‘২০১১ সালে নগরীর লালদিঘির মাঠে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তিনি একদিনের জন্যেও চট্টগ্রামকে ভোলেন নাই। ২০১১ সাল থেকে এখানে যে উন্নয়ন শুরু হয়েছে, তা একদিনের জন্যও থামেনি। আগামী ৫ বছরে চট্টগ্রাম ৫০ বছর এগিয়ে যাবে। তবে তার জন্য শর্ত হচ্ছে সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে হবে।’

একনেকে পাস হওয়া ১৪ হাজার কোটি টাকার ৩টি মেগা প্রকল্প আগামী ৩ বছরের মধ্যে শেষ হবে। ৩ বছরের মধ্যে নগরীর প্রধান ৩৬টি খালের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ, সংস্কার, মাটি খনন কাজ এবং ৪৮টি ব্রীজ উচু করা হবে।

এ প্রকল্পের আওতায় ৫টি খালে স্লুইস গেট নির্মাণ করা হবে। সিডিএর অন্যান্য প্রকল্প মিলে আগামী ৩ বছরে মোট ২৮টি স্লুইস গেট নির্মাণ হবে নগরীতে। আর এগুলো নির্মাণের পর নগরীর সিডিএ, আগ্রাবাদ, খাতুনগঞ্জ, হালিশহর, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট এলাকায় আর জলাবদ্ধতা হবে না।

পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত আউটার রিং রোড প্রকল্প

‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুন: খনন, সম্প্রসারণ, সংষ্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পরবর্তী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার এসব তথ্য দেন সিডিএ চেয়ারম্যান।

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম লেখা হয়েছে অভিভাবকহীন চট্টগ্রাম। ওইটা দেখে ব্যথিত হয়েছি। খোদ প্রধানমন্ত্রী যেখানে চট্টগ্রামের অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়েছেন, সেখানে চিন্তার কিছু নেই। চট্টগ্রামের উন্নয়ন অব্যাহত আছে, থাকবে। আগামী ৫ বছরে এখানে এক লাখ কোটি টাকার শিল্পায়ন হবে।’

আগামী অক্টোবর মাস থেকে শুরু হবে প্রায় ৩২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পর্যন্ত ফ্লাইওভারের কাজ। এই ফ্লাইওভারের টাইগারপাস, আগ্রাবাদ, কাস্টমস, ইপিজেড, কেইপিজেড এলাকায় বাসস্ট্যান্ড থাকবে। যাতে সহজেই গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে।

ফৌজদারহাট থেকে বায়েজীদ পর্যন্ত বাইপাস রোডের কাজ প্রায় ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী বছরের দিকে এই বাইপাস সড়কটি নগরবাসীকে উপহার দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সিডিএ চেয়ারম্যান। পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত রিং রোডের কাজও ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এ কাজ পুরোপুরি শেষ হবে ২০১৯ সাল নাগাদ।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিডিএ বোর্ড সদস্য জসিম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন শাহ, কেবিএম শাহজাহান, স্থপতি সোহেল শাকুর, সিডিএ প্রধান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিধ শাহিনুল ইসলাম খান, উপ-সচিব অমল গুহ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ‘খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক মেগা প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

মন্তব্য করুন

comments