শাহ আমানত হজ কাফেলার বিরুদ্ধে হাজিদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ

এস আলম গ্রুপের ২০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের নোটিশ

1171
শেয়ার
ছবিঃ সংগৃহিত

এস আলম গ্রুপের ২৩৩ জন হাজীর সাথে প্রতারণার ও হয়রানীর অভিযোগে শাহ আমানত হজ্ব কাফেলা ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস নামে একটি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের নোটিশ দেয়া হয়েছে।

পবিত্র মদিনা মনোয়ারায় পৌঁছে হোটেলের ব্যবস্থা করে না দেওয়া তিন’শ হাজীকে বিপাকে ফেলার অভিযোগ উঠেছে শাহ আমানত হজ কাফেলার বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার শাহ আমানত হজ্ব কাফেলাকে এস আলম গ্রুপের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান এ নোটিশ প্রদান করেন।

২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দেয়া উক্ত নোটিশে বলা হয়– এস আলম গ্রুপ শিল্প, বাণিজ্যের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে প্রতিবছর আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের একটি দল হজ্বে পাঠান। এবারও এ কাফেলার মাধ্যমে ২৩৩ জন হাজির মধ্যে এ ক্যাটাগরির ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জনপ্রতি হিসেবে যাবতীয় ব্যয় বাবদ গত বছরের ২২ নভেম্বর সম্পাদিত চুক্তি মোতাবেক ৮ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা তাদের প্রদান করা হয়।

গত ৭ আগষ্ট তারিখে এস আলম গ্রুপের তালিকাভুক্ত হাজিদের পবিত্র মদিনা মনোয়ারায় পৌঁছানো হয়। কিন্তু তাদের নির্ধারিত হোটেলে না রেখে বিভিন্ন নন এসি রুমের এক একটি কক্ষে ৮/১০ জন হাজীকে ঠাসাঠাসি করে রাখা হয় যেখানে এটাচ বাথরুমও নেই । এতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদেরকে বার বার হোটেল পরিবর্তন সহ ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় ব্যাগ ব্যাগেজ নিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে।

চুক্তিভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগে শাহ আমানতকে প্রদত্ত নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘন্টার মধ্যে হাজীদের চুক্তি মোতাবেক যাবতীয় সেবা নিশ্চিত করতে সময় বেঁধে দেয়া হয়। অন্যথায় ২০০ কোটি টাকা সুনাম ক্ষুণ্নের এবং প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে ফৌজদারী ও দেওয়ানী আদালতে যুগপৎ মামলা দায়েরর ব্যপারে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়।

জানা যায়, ১টি লাইসেন্সে ৩০০ হাজী নেয়া যায়। কিন্তু শাহ আমানত হজ্ব কাফেলা বিভিন্ন লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রায় ১৬০০ জন হাজী নিয়ে যায়। ফলে হাজীরা দুর্ভোগের শিকার হন।

যাদের প্রতি আইন নোটিশ দেয়া হয় তারা হলেন শাহ আমানত হজে কাফেলার এম. ডি মোহাম্মদ ইয়াছিন, পরিচালকরা হলেন যথাক্রমে মোঃ মহিউদ্দিন, মোঃ সাইফুদ্দিন জহুর, এ.টি.এম শাহজালাল, মোঃ নাঈম উদ্দিন জহুর প্রমুখ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহ আমানত হজ কাফেলার এম. ডি মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, মক্কায় আমরা হাজিদের জন্য যে বাড়ী ভাড়া করেছি সে বাড়ির মালিকানা নিয়ে সে দেশের দুই ভাইযের বিরোধের কারণে বাড়ীটি সীলগালা করে দিয়েছে সৌদী কর্তৃপক্ষ। এ কারণে হঠাৎ এ সমস্যার কারণে আমাদের হাজীরা একটু দুর্ভোগে পড়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা আবার একটি নতুন বাড়ী ভাড়া করে হাজীদের থাকার ব্যবস্থা করছি। হাজীদের এ দুর্ভোগের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

মন্তব্য করুন

comments