বিশ্বমানের সেবা নিয়ে চালু হচ্ছে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল

2605
শেয়ার

শীঘ্রই চালু হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ৩৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক এবং বহুমুখী বিশেষায়িত হাসপাতাল ‘ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল লিমিটেডে’।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে রয়েছে নানান অনিয়ম। প্রয়োজন ছাড়া রোগীকে আইসিইউতে রাখা ও অস্ত্রোপচার করা, অহেতুক রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা করা, রোগীকে সময় কম দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া, ভুলচিকিৎসাসহ হরেক রকম অনিয়মের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এ কারণে, সামর্থ্যবান ও সচেতন রোগী এবং তাদের স্বজনেরা এড়িয়ে চলছেন স্থানীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাকে।

উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকায় কয়েকটি বিশ্বমানের অত্যাধুনিক হাসপাতাল গড়ে উঠলেও বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত এ চট্টগ্রাম শহরে তা নেই। ফলে, চট্টগ্রামের সামর্থবান মানুষদের একটা অংশ মানসম্মত ও উন্নত চিকিৎসার জন্য হরহামেশা ঢাকা ও দেশের বাইরে ছুটতে হচ্ছে।

তাই অনেকদিন ধরেই চট্টগ্রামবাসী এরকম আধুনিক একটি হাসপাতালের প্রয়োজন অনুভব করছিলেন। উন্নত চিকিৎসাসেবার এই সংকট ঘোচাতে
তাই গড়ে উঠছে বেসরকারি উদ্যোগে বিশ্বমানের ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল। হাসপাতালটির নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে।

পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল সংলগ্ন ৭ একর জায়গার ওপর নির্মিত এ হাসপাতাল বিশ্বমানের আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার সমন্বয়ে সমৃদ্ধ। সম্প্রতি, সার্বিক চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল লিমিটেড এবং অস্ট্রিয়াভিত্তিক বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ভেমেড হেলথ্ কেয়ার ম্যানেজম্যান্টের সঙ্গে গতকাল ৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়।

চলতি বছরের শেষদিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে ২০০ শয্যা নিয়ে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু হবে।

চিকিৎসার সার্বিক মান উন্নয়নে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল প্রশিক্ষিত নার্স ও টেকনিশিয়ান তৈরির লক্ষ্যে আবাসন সুবিধাসহ একটি নার্স ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। সর্বোপরি আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল রোগীদের জন্য হাসপাতালের ১০ শতাংশ চিকিৎসা সুবিধা বরাদ্দ ব্যবস্থা রয়েছে।

ক্যানসার ও কিডনিজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য থাকছে বিশেষায়িত ব্যবস্থা। এ হাসপাতাল এলাকায় পরবর্তীতে ১০ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন গড়ে তোলা হবে। যেখানে থাকবে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত ক্যান্সার শাখা।

এছাড়া ৬ লাখ বর্গফুটের এ হাসপাতালে ৮৮টি সিঙ্গেল, ৭৬টি ডাবল কেবিন, ১৪টি অস্ত্রোপচার কক্ষ, ৭৫টি ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেড, ৫২টি কনসালটিং রুম, রোগীর স্বজনদের থাকার জন্য ৪০টি রুম এবং ২৭১ জন থাকার ডরমেটরিও থাকছে।

ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে গুরুতর রোগীদের দ্রুত ও নিরাপদ স্থানান্তরের জন্য আধুনিক লাইফ সাপোর্ট চিকিৎসা সংবলিত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা থাকছে। সেইসঙ্গে দূরবর্তী বা সংকটাপন্ন এলাকা থেকে রোগীদের আনার জন্য হেলিপ্যাড সেবা থাকছে। একই সঙ্গে দূরবর্তী রোগীদের দর্শনার্থীদের থাকার সুবিধার জন্য হাসপাতাল ক্যাম্পাসেই আবাসন সুযোগও থাকবে।

পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চক্ষুরোগ বিশেষ্‌জ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন এ হাসপাতালের উদ্যোক্তা। প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য আধুনিক এই হাসপাতালটি তার ড্রীম প্রজেক্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের উচ্চ আয়ের মানুষরা চিকিৎসার জন্য ভারত বা সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান। আর মধ্য এবং নিম্ন আয়ের মানুষরা ভালো চিকিৎসা সেবা পান না। সবার জন্য সুষ্ঠু এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই চট্টগ্রামের এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করছি আমরা।

তিনি জানিয়েছেন, এ হাসপাতাল প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক। দেশে এই প্রথম বেসরকারি কোনো হাসপাতালে অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক। চক্ষু হাসপাতালের নান্দনিক অবকাঠামো ও সেবার মান দেখে বিশ্বব্যাংক ইমপেরিয়াল হাসপাতালে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করে বলে জানালেন ডা. রবিউল হোসেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের সেবার মনোভাব নিয়ে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। এরকম উদ্যোগ দেশে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানোর সাথে সাথে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম দূর করতে সহায়তা করবে।

মন্তব্য করুন

comments