অক্সিজেন-হাটহাজারী চার লেন প্রকল্প ১১ বছরেও শেষ হয়নি

প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতায় এরই মধ্যে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা

82
শেয়ার
পুরনো ছবিঃ আর্কাইভ থেকে

চট্টগ্রাম নগরের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী, রাউজান, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা এবং দুই পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ধরা হয় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিকে।

২০০৭ সালে প্রকল্পটি অনুমোদনের পর ১১ বছর পার চললেও অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়ক সম্প্রসারণের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তন দফায় প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সময় বাড়ার সাথে সাথে ১২৯ কোটি ৫১ লাখ ৮৭ টাকায় প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেড়ে ২২৬ কোটির কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে।

২০০৯ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন তখনকার যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। উদ্বোধনের ছয় মাস পর ২০১০ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের অধীন ১২ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কটির দুপাশে ২৪ ফুট করে ৪৮ ফুট প্রশস্ত করার কথা রয়েছে।

এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কম-বেশি ১৮ হাজার গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু চার লাইন না হলেও দুই পাশে সড়ক প্রশস্তকরণ করা হয়েছে। সড়কের যেটুকু অংশ সম্প্রসারণ করা হয়েছে, সেখানেও বসানো হয়েছে বাজার, সেই সঙ্গে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে এটুকু কাজের সুফলও পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। নিত্যদিনের যানজটে আটকে আছে তারা।

প্রকল্পটি নিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের অনেক প্রত্যাশা। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষ অনেক কষ্ট স্বীকার করে আসছেন, এই সড়কটি চারলেইন হলে ভবিষ্যতে তাদের কষ্ট চিরদিনের জন্য ঘুচে যাবে।

এদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানিয়েছে, ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ এরই মধ্যে ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষে শিগগিরই প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

মূলত অর্থ ছাড়ে বিলম্ব, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, নকশাগত ত্রুটি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও একাধিক সংস্থার অসহযোগিতায় চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ বিলম্বিত হয়।

প্রসঙ্গত, সড়কটির কাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান না হওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার কাজ শেষ করতে না পারায় ২০১৪ সালে মেসার্স আনোয়ার-পপুলার কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে চুক্তি বাতিল ও প্রতিষ্ঠানটিকে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া কাজের ধীরগতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় একই বছর নোটিস দিয়ে সতর্ক করা হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম বিল্ডার্সকে।

এই প্রকল্পটির গুরুত্ব বিবেচনা করে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এই সড়কটির প্রকল্প ব্যয় এবং সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে একনেকে এই প্রকল্পের সময়সীমা সর্বশেষ ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

মন্তব্য করুন

comments