X

চট্টগ্রাম আগোরায় নকল ডিম বিক্রির অভিযোগ!

নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন আফমি প্লাজায় আগোরা সুপার শপে নকল ডিম বিক্রির একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সপাহখানেক আগে স্থানীয় স্কুলের এক শিক্ষিকা ডিম কিনে নিয়ে যান নিজের ৮ মাস বয়েসি শিশুকে খাওয়ানোর জন্য। বাসায় গিয়ে খাওয়ানোর সময় তার ডিমের ব্যাপারে সন্দেহ তৈরি হয়।

এই বিষয়টি নিয়ে তিনি সোমবার (৩১ জুলাই) আগোরা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। পরে ডিমের পরিবেশক টেলিফোন করে ওই শিক্ষিকার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকার নাম সুবর্ণা তুলি। আলাপচারিতায় তিনি জানান, ‘আমি আগোরার কার্ডধারী গ্রাহক। মানসম্পন্ন পণ্যের জন্য বেশি দামে আফমি প্লাজার আগোরা সুপার শপ থেকে কেনাকাটা করি। বিশেষ করে সন্তানের সুস্বাস্থ্যের জন্য মানের প্রশ্নে আপোস করি না। বাজারের যেখানে প্রতিটি ডিম ৮ টাকা সেখানে রেনাটা কোম্পানির Purnava omega 3 enriched egg প্রতিটি ২৫ টাকায় কিনেছিলাম। কিন্তু সন্তানের জন্য খাবার তৈরির সময় ডিম ভাঙার পরে দেখি ডিমের কুসুমটি রাবারের মতো শক্ত। পরে ডিমের কুসুমের রঙও বদলাতে থাকে। অস্বাভাবিক মনে হলো। এগুলো মুরগির ডিম হতেই পারে না।’

সুবর্ণা তুলি বলেন, ‘নষ্ট হলে তো ভাঙার সময় দুর্গন্ধ পেতাম। কিন্তু কোনো গন্ধ ছিল না। ডিম ভাঙার পর কুসুমগুলো শক্ত পেয়েছি। অনেকটা জেলির মতো দেখতে। কিছুক্ষণ পাত্রে রাখার পর দেখি ভিন্ন ভিন্ন রং পাল্টাচ্ছে। সাথে সাথে আমি আগোরায় ফোন করে বিষয়টি জানাই। তারা আমাকে ডিমগুলো তাদের সুপার শপে ফেরত নিয়ে যেতে বলেন। পরে আগোরায় গিয়ে বিক্রয়কর্মীদের নকল ডিমগুলো দেখালাম। তারা আমাকে একটি অভিযোগ ফরম দেন, আমি তা পূরণ করে বাসায় চলে আসি।’

‘ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক স্বার্থসিদ্ধির জন্য কিছু মহল মানুষের জীবনকে, জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।’ ক্ষোভের সঙ্গেই এমন মন্তব্য করেন ভুক্তভোগী সুবর্ণা তুলি।

প্রতিবেদক আগোরার রিটেইল সেলস অফিসার ইমাম হোসাইনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘গ্রাহকের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই, আমরা বিষয়টি আমাদের ঢাকা অফিস জানিয়েছি। গ্রাহকের দেওয়া ভাঙা ডিমের ছবিগুলো ই-মেইলে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

এ ছাড়াও যাদের কাছ থেকে আমরা ডিমগুলো সরবরাহ নিই, সেই রেনাটা কোম্পানিকেও বিষয়টি অবহিত করেছি। তারা জানিয়েছে, ডিমগুলো গাড়িতে আনা নেওয়ার সময় বাতাসের আর্দ্রতায় হয়তো কোনো সমস্যা হয়েছে। তাদের দাবী তবে ডিমগুলো নকল নয়।

উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার ৩১শে জুলাই পটিয়ার আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্যেষ্ঠ বিচারক মো. মহিদুল ইসলাম জব্দকৃত প্রায় ৩ হাজার ডিম পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মন্তব্য করুন

comments