X

সিঙ্গাপুরগামী কনটেইনার থেকে আবারো শ্রমিক উদ্ধার

ছবিঃ সংগৃহিত

চট্টগ্রাম বন্দরে সিঙ্গাপুরগামী ‌একটি রফতানিমুখী কনটেইনার থেকে এক শ্রমিককে উদ্ধার করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত শ্রমিকের নাম বাবুল ত্রিপুরা (৩৫)। তার গ্রামের বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলায়। সীতাকুণ্ডের বারআউলিয়ায় একটি বেসরকারির প্রতিষ্ঠানের ডিপোতে কাজ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কর্নেল আব্দুল গাফফার জানান, কিভাবে ওই শ্রমিক কনটেইনারের ভেতরে ঢুকে পড়েছেন তা খতিয়ে দেখছেন তারা। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানান, ৪০ ফুটের এই কনটেইনারটি সিঙ্গাপুরগামী চার্লি জাহাজে ওঠার কথা ছিল। রোববার রাতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডিপো বন্দরের ৪ নং গেইটে এসে পৌঁছায়। ওই ডিপোতে থাকা কনটেইনারের ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পেয়ে গেটের নিরাপত্তা প্রহরীরা কনটেইনার খুলে তাকে উদ্ধার করেন।

এরপর প্রাথমিকভাবে তাকে বন্দর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে। বাবুল ত্রিপুরার জানান, কইটেইনারের ভেতর কাজ করতে করতে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। পরে কনটেইনারটি সিল করে ট্রলিতে তুলে দেওয়া হয়। ঘুম ভাঙার পর নিজেকে বন্ধ কনটেইনারের ভেতর দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরে বন্দরের লোকজন তাকে উদ্ধার করে।

এর আগেও কয়েকবার খালি কনটেইনারে ঢুকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে। আর ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে সাতটি। ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল সিঙ্গাপুর বন্দরের একটি টার্মিনালে খালি কনটেইনার থেকে দুই বাংলাদেশি শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের একজন ছিলেন মৃত। কনটেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাঠানো হয়েছিল।

এদিকে বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, তদারকি দুর্বলতাতেই খালি কনটেইনারে শ্রমিক ঢুকে পড়ছে বারবার। নিরাপত্তার ফাঁক গলে খালি কনটেইনারে শ্রমিকের উঠে পড়ার ঘটনায় পণ্য খালাসের সনাতন পদ্ধতিকে (বন্দরের মূল চত্বরে কনটেইনার খুলে শ্রমিকদের দিয়ে পণ্য খালাস করা) দায়ী করেছেন তারা। তাদের মতে, সনাতন পদ্ধতির কারণে পণ্য খালাসের জন্য প্রতিদিন ১০-১২ হাজার লোক বন্দরে প্রবেশ করে। একসঙ্গে এত লোকের তদারকের বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন। বিশ্বের উন্নত বন্দরগুলোর মূল চত্বরে এভাবে পণ্য খালাস করা হয় না।

মন্তব্য করুন

comments