সীতাকুণ্ডে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে চুরি

42
শেয়ার

সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়ির নারী ও শিশুসহ ৮ সদস্যকে অচেতন করে চুরির ঘটনা ঘটেছে।

গত শনিবার রাতে ইউনিয়নের জোড়আমতল ছড়ারকূল এলাকার আরিফ করিমউল্লাহ ফকির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে ঘরের ভেতরে ঢুকে স্বর্ণালঙ্কার, টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার সময় অন্যরা সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়লেও ১১ বছর বয়সী পরিবারের সদস্য রিদুয়ান জেগে ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহজাহান ও দেলোয়ার নামের দুই ভাই মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। গত শনিবার ওই বাড়িতে ছিলেন তাঁদের মা হালিমা বেগম, প্রবাসী দুই ভাইয়ের স্ত্রী শাহানারা ও শীলা আক্তার, বোন তাসলিমা আক্তার ও পরিবারের চার শিশু।

এলাকার ইউপি সদস্য কফিল উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, বাড়িতে কোন বড় পুরুষ সদস্য থাকে না। এই পরিবারের দুইভাই শাহজাহান ও দেলোয়ার দুবাই থাকেন। তাদের মা বউ-নাতিদের নিয়ে একসাথে বসবাস করে আসছে। তার মধ্যে তাদের বিবাহিত একবোন বেড়াতে এসেছিল। ডাকাতরা জানালার গ্রিল ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে সবাইকে অজ্ঞান করে ডাকাতি করেছে।

তাদের আত্নীয় মো. মাসুদ বলেন, পরিবারের সদস্যরা রাত সাড়ে আটটার দিকে রাতের খাওয়া শেষ করেন। এর কিছুক্ষন পর সবার ঝিমুনি শুরু হয়। পরের ঘটনা আর কারও মনে নেই।

রোববার সকালে ওই পরিবারের শিশুদের নিতে স্কুলের গাড়ি আসে। চালক তাঁদের ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের জানান। প্রতিবেশীরা খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে সবাইকে অচেতন দেখে ভাটিয়ারীর বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশন (বিএসবিএ) হাসপাতালে নিয়ে যান।

প্রতিবেশীরা জানান, ডাকাতরা কিভাবে ডাকাতি করেছে, কিভাবে সবাইকে অজ্ঞান করেছে তা বুঝা যাচ্ছে না। তবে তাদের ধারণা, তাদের কোনো আত্মীয় হয়তো আগে থেকে খাবারে কিছু মিশিয়ে রেখেছিল অথবা ডাকাতরা কোনো ধরনের স্প্রে ব্যবহার করে অজ্ঞান করেছে।

বিএসবিএ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. সালাউদ্দিন বলেন, চেতনানাশক দিয়ে তাঁদের অচেতন করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক বলেন, কীভাবে তাঁদের অচেতন করা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।

মন্তব্য করুন

comments