জলাবদ্ধতার জন্য অপরিকল্পিত নগরায়নকে দায়ী করলেন মেয়র

আপনারা ট্যাক্স প্রদানের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করুন। স্বনির্ভর করে গড়ে তুলুন।

53
শেয়ার

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যার বর্তমান অবস্থা সৃষ্টির জন্য সবাই কমবেশি দায়ী মন্তব্য করে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন করতে সময়ের প্রয়োজন।

গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে আয়োজিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের পরিকল্পনা ও ঈদ পনুর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “কেউ যদি ধারণা করেন যে আমি এক বা দুই বছরের মধ্যে জলাবদ্ধতার সমাধান করে ফেলব আমি বিনয়ের সাথে তার ধারণার সাথে ভিন্নমত পোষণ করব।”

জলাবদ্ধতা নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব প্রকৌশল বিভাগের ৪১ টি ওয়ার্ড নিয়ে করা এ স্টাডি রিপোর্ট তৈরি করছে, যা কয়েকদিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। মেয়র বলেন, “বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে যেটা বুঝেছি জলাবদ্ধতা এখন যে জায়গায় রয়েছে সেটা এক বা দুই বছরে সমাধান হবে না।”

তিনি আরও বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে চট্টগ্রাম শহরে কোথাও জলাধার নেই। জলাধারগুলোতে বিভিন্ন স্থাপনা হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নেওয়া আবাসন প্রকল্পে নগরীর বেশকিছু জলাধার ভরাট হয়ে গেছে। এর মধ্যে কল্পলোক আবাসিক এলাকার কথা উল্লেখ করে বলেন কল্পলোক এক ও দুই এমন জায়গায় হয়েছে, যেখানে চাক্তাই খালের পানি বেশি হলে জমা থাকত।

চট্টগ্রাম শহরকে বর্ধিত করার প্রয়োজন থাকলেও সেটা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “সাবেক মেয়র শ্রদ্ধেয় এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম শহরকে বর্ধিত করার উদ্যোগ নিলেও আইনি জটিলতার কারণে তিনি সফল হননি।”

জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনের জন্য নগরবাসীকে কিছুদিন ধৈর্য্য ধরার আহবান জানান মেয়র। চসিকের পরিকল্পনায় এতবার রাস্তাঘাট সংস্কারের প্রস্তুতি ছিলনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়ন কর্মকান্ডের কারণে নগরীতে স্বাভাবিক রাস্তা একটাও নাই। আমরা একেকটা রাস্তার উপর বার বার বেসমেন্ট ফেলছি। আবার রোদ উঠলে প্ল্যান্টের মাধ্যমে সেসব রাস্তা মেরামত করছি। কিন্তু এগুলো ধরে রাখা যাচ্ছে না। রাস্তাঘাটগুলো মেরামত করতে কিন্তু আমাদের টাকা লেগেছে। টাকা ছাড়া এখানে কাজ হচ্ছে না।

কর দিন, সেবা বুঝে নিন

ট্যাক্স দিয়ে সিটি করপোরেশন থেকে ‘পাই টু পাই’ সেবা বুঝে নিতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান মেয়র। তিনি বলেন, আপনারা ট্যাক্স প্রদানের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করুন। স্বনির্ভর করে গড়ে তুলুন।

এছাড়া ভাড়ার সঠিক তথ্য গোপন করে গৃহকর ফাঁকি দেওয়া বাড়ির মালিকদের সমালোচনা করেন তিনি। গৃহকর কম দেওয়ার উদাহরণ দিয়ে নাছির বলেন, “একটা অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া যদি হয় ৩০ হাজার বা ৪০ হাজার টাকা সেখানে মালিক বলছেন দশ হাজার টাকা। এর ভিত্তিতেই কর পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু তাঁরা সেটিও দিতে চান না।”

শহরের সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশে জীবনযাপন করতে হলে সময়মত পৌরকর দিতে হবে, এ মানসিকতা তৈরির উপর গুরুত্বারোপ করেন মেয়র। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। বক্তব্য রাখেন সিসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিউল আলম, হাবিবুল হক, সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মন্তব্য করুন

comments