আসল মায়ের কাছে ফিরে গেলো আফরা;হৃদয় ভাঙলো পালক মায়ের

63
শেয়ার

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের সবুজবাগে গত ২৫ এপ্রিল বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পোশাক শ্রমিক নুসরাত জাহান রুবি ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ দেখেন পাশে থাকা ১১ মাস বয়সী তার নাঁড়িছেঁড়া ধন আফরা নেই। পাগলের মতো খুঁজতে থাকেন তার একমাত্র সন্তানকে। কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলেননা তিনি তার সন্তানকে।তিনি তার স্বামী আসলামকে ফোন করেন,কিন্তু তার মোবাইল বন্ধ পান তিনি।বেকার স্বামী আসলামকে ও না পেয়ে নুসরাত তখন নিশ্চিত হন যে তার স্বামী আসলামই বাচ্চাকে নিয়ে গেছে।
কোথাও না পেয়ে শেষমেশ হালিশহর থানায় জিডি করেন রুবি।

ঘটনার প্রায় ৩ মাস পর কয়েকদিন আগে সন্তানের শোকে দিশেহারা যখন নুসরাত, অনেক খুঁজে শেষমেশ পেয়ে যান আসলামকে। বাচ্চার জন্য ধরে বসে সে।
মায়ের অগ্নিমূর্তি দেখে আসলাম স্বীকার করতে বাধ্য হয়।

নুসরাত জানতে পারেন, অন্য কেউ নয়,তার নেশাগ্রস্ত স্বামীই ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন। দেওয়ানহাটের এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বড় হচ্ছে শিশুটি।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, হালিশহর এ ব্লক এলাকার পোশাকশ্রমিক নুসরাত জাহানের সঙ্গে মো. আসলামের তিন বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর পর তাদের কন্যাসন্তান হয়। আসলাম স্ত্রীর কাছ থেকে নেশার টাকা না পেয়ে শিশুটিকে বিক্রি করে দেন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে নুসরাত মঙ্গলবার নিশ্চিত হন শিশুটিকে কিনেছেন দেওয়ানহাট এলাকার সেকান্দর-রাশেদা দম্পতি।

প্রথমে রাশেদার বাড়িতে গিয়ে সন্তানকে ফেরত চান তিনি। কিন্তু তারা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চলে যান হালিশহর থানায়। মানব পাচার আইনে তিনি মামলা করার পরপরই নুসরাতের স্বামী আসলাম ও শিশুটিকে কিনে নেওয়া মো.সেকান্দরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রাশেদার কোলে আফরা

মঙ্গলবার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বাদীর আপত্তি না থাকায় গতকাল সেকান্দরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। তবে আসলামের পক্ষে আদালতে আইনজীবী ছিলেন না।

গতকাল বুধবার বিকেলে আদালতে যখন শুনানি চলছিল, তখন এজলাসকক্ষে দাঁড়ানো দুই মা অঝোরে কাঁদছিলেন। শুনানির সময় পালক মা রাশেদার কোলে পরম নির্ভরতায় গলা জড়িয়ে ছিল শিশুটি।আফরা তখন ঘুমুচ্ছিলো। ঘুমাবার আগে সে রাশেদার কোল ছেড়ে কারো কোলে যায়নি। এমনকি তার জন্মদাত্রী মায়ের কোলেও নয়।

শুনানি শেষে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমান আদেশ দেন, শিশুটি পাবেন গর্ভধারিণী মা। হারানো শিশুকে ফিরে পেয়ে নুসরাতের চোখে আনন্দের জল। অন্যদিকে শিশুটিকে আঁকড়ে ধরে তখন ডুকরে ডুকরে কাঁদছিলেন রাশেদা।এসময় আদালত প্রাঙ্গনে হৃদয় বিদারক মূহুর্তের অবতারণা হয়।

আফরার পালক মা নুসরাত জাহান বলেন ‘নেশার টাকার জন্য নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দেয়, এমন বাবা যেন কারও না হয়।’ এমন বাবা আসলামের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

comments