X

আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ৭ টি উপায়

আত্ববিশ্বাস আপনাকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাবে

সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছতে প্রথমেই আত্মবিশ্বাসী হওয়া চাই। তাই আত্মবিশ্বাস শুধু একটি শব্দ নয়, এটি একটি শক্তি যা আমাদের জীবনের যেকোন কঠিন পরিস্থিতি সহজে মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।

আপনার আত্মবিশ্বাস আপনার অবলম্বন, মানসিক শক্তির উৎস। জীবনে প্রতিটা পদক্ষেপে চাই আত্মবিশ্বাস। আত্নবিশ্বাসের জোরেই যে কোনো কাজে সফল হওয়া সম্ভব। আসুন জেনে নিই আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ৭ টি উপায়।

১. যেকোন জন্য প্রস্তুত থাকুনঃ
আমাদের জীবনের কোন একটা খারাপ সময় আমাদের আত্নবিশ্বাস নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। সেক্ষেত্রে হাল ছেড়ে দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। আবারও নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করুন। কারণ একটি কাজে যখন আমরা ব্যর্থ হয় তখন একটু চিন্তা করলেই আমরা আমাদের ব্যর্থতার কারণগুলো খুব ভালভাবে ধরতে পারি। আর ব্যর্থতাগুলো থেকেই আমরা আমাদের জীবনকে ভালভাবে বোঝার শিক্ষা নিতে পারি। জীবনে যত বেশি উত্থান-পতন ঘটবে, মনে রাখবেন, আপনার লক্ষ্য ততই নিকটে। আর এতে করে আপনার আত্মবিশ্বাস আবারও নতুন করে গড়ে উঠবে।

২. সঠিক সঙ্গী বাছাই করুনঃ
জীবনে চলার পথে অনেক মানুষের সাথেই মিশতে হয়। সেক্ষেত্রে আদর্শ সঙ্গী বাছাই করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কারণ কিছু লোকের নেতিবাচক কথাবার্তা আপনার আত্নবিশ্বাসকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই আগে থেকেই সাবধান হোন। যেসব মানুষ আপনাকে উৎসাহ দেয় এবং উচ্চ স্থানে যেতে উৎসাহিত করে তাদের সঙ্গে সবসময় চলাফেরা করুন। তাতে বরং আপনার আত্নবিশ্বাসের ঘাটতি হবে না।

৩. নিজেকে গ্রহণ করুনঃ
পিছনে লোকজন কী বললো তা নিয়ে একদমই চিন্তা করবেন না কারণ যে কোনো কাজেরই আলোচনা-সমালোচনা হবে এটাই স্বাভাবিক মনে করবেন। তাহলে সফল হতে পারবেন। নিজের প্রতি ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো মনোভাব বজায় রাখুন। মাথা থেকে যেকোনো জটিল ভাবনা ঝেড়ে ফেলুন। নিজে যেরকমই হোন, তা নিয়ে মনের মধ্যে কোনো অস্বস্তি পুষে রাখবেন না। তাই পিছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলুন, সফলতা আসবেই।

৪. বিশ্রাম ও কাজের মধ্যে সমন্বয় করুনঃ
পর্যাপ্ত ঘুম, অনুশীলন ও পর্যাপ্ত পুষ্টিসম্পন্ন খাবার আপনার মুড ভালো করবে। একইসাথে আপনার কর্মক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসকেও বাড়িয়ে তুলবে। আবার প্রতি সপ্তাহে তিনবার মাত্র ২০ মিনিটের শারীরিক অনুশীলন আপনাকে শুধু বিষণ্ণতা থেকেই মুক্তি দিবে। আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হলে সবার আগে কাজে মনযোগী হতে হবে। এর জন্য যোগব্যয়াম বা ধ্যান করতে পারেন।

৫. আগে থেকেই প্রস্তুতি নিনঃ
প্রত্যেক পরিস্থিতিতেই আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বেড়ে যায়। আবার অনেকবার অনুশীলন করা, রেকর্ড করা ও শুনলেও আত্নবিশ্বাস বেড়ে যায়। তাই যে কোনো কাজেই আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন তাহলে উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতি আপনি মোকাবেলা করতে পারবেন।

যদি আপনার ভয়টা হয় প্রেজেন্টেশন নিয়ে, তাহলে সেটা নিয়ে সময় থাকতে বসে ভালভাবে বিষয়টা বুঝে নিন আর চেষ্টা করুন শ্রোতারা আপনাকে কি ধরনের প্রশ্ন করতে পারে তা আগে থেকেই আঁচ করতে। সম্ভব হলে কাছের বন্ধুদের সামনে কয়েকবার অনুশীলন করুন।

৬. কাজকে ভালবাসুনঃ
প্রথমে নিজের কাজের প্রতি নিজের শ্রদ্ধা বোধ তৈরি করতে হবে। ঠিক করতে হবে আপনি কোন কাজ করতে পছন্দ করেন, কোনটা করেন না। নিজে যে কাজটা করবেন তা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে। কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করুন এবং কাজকে ভালবাসুন। আমরা কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে না পারি তাহলে উন্নতির সিঁড়ির সন্ধান পাওয়াটা মুশকিল হবে।

আপনি নিজের কাজকে যদি উপভোগই করতে না পারেন, তবে আপনি কাজকে ভালোবাসতে পারবেন না। আর কাজকে ভালোবাসতে না পারলে সফল হওয়া মোটামুটি অসম্ভব। তাই কাজকে ভালবাসুন, নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন।

৭. পরামর্শ নেয়ার জন্য উদ্যোগী হোনঃ
কাজ করার সময় ভুল-ত্রুটি হতে পারে, এটাই স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে। হতাশ বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে চলবে না। আপনার আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে বন্ধু বা আত্মীয়ের কাছে সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না। খুব কাছের বন্ধুদের কাছে আপনার সমস্যাটি খুলে বলুন। যে কোনো কাজেই সফল হতে চাইলে অবশ্যই একজনকে আদর্শ মানতে হয়। কারণ নিজে নিজে সব ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না। তখন পরামর্শদাতাই আপনাকে সঠিক পথের সন্ধান দিবে। তাই আগেই একজন পরামর্শদাতার খোঁজ করুন।

মনে রাখবেন সাফল্যের কোন ম্যাজিক ফর্মূলা নেই। আজকের বিশ্বের সবচেয়ে সফল মানুষগুলোর জীবন আর লাইফস্টাইল ঘাটলে দেখতে পাবেন, তাদের কারোরই চলার পথ মসৃন ছিলনা। জীবনে যেকোন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুন আর নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকুন। সাফল্য আসবেই।

মন্তব্য করুন

comments