X

দেশেই মোবাইল কারখানা!

গাজীপুরে দেশের প্রথম হ্যান্ডসেট তৈরির কারখানা চালু করল ওয়ালটন। গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢুকে একটু পরই মহাসড়ক থেকে ওয়ালটন হাইটেক ও মাইক্রোটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পার্কের বিশাল স্থাপনা রয়েছে।

৫ অক্টোবর কারখানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন টেলিযোযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এ সময় ছিলেন ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম, ওয়ালটন ডিজিটেক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম।

এই কারখানা স্থাপনের ফলে মোবাইল হ্যান্ডসেটের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে উল্লেখ করে তারানা হালিম বলেন, মানের দিক থেকে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই টিকে থাকবে ওয়ালটন। ভবিষ্যতে দেশের বাইরেও বাংলাদেশের এই হ্যান্ডসেট রপ্তানি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আর সাশ্রয়ী দামে ভালো মানের হ্যান্ডসেট মানুষের কাছে তুলে দেওয়ার কথা জানান এস এম শামসুল আলম ও এস এম রেজাউল আলম।

এই ইন্ডাস্ট্রিজ পার্কেই এইচএফসি গ্যাসমুক্ত ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির রেফ্রিজারেটর ইউনিট, অত্যাধুনিক কম্প্রেসার কারখানা, টিভি, মোটরসাইকেল, রিমোট কন্ট্রোল টেবিল ফ্যান, সিলিং ফ্যান, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার, ইলেকট্রিক সুইচ-সকেট, রিচার্জেবল ব্যাটারি, গ্যাস স্টোভ এবং অসংখ্য হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন কারখানা করেছে ওয়াটলন।

প্রায় ৫০ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে গাজীপুরের চন্দ্রায় গড়ে তোলা হয়েছে ওয়ালটন ডিজিটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এখানে রয়েছে হ্যান্ডসেটের ডিজাইন ডেভেলপ, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাব। স্থাপন করা হয়েছে বিশ্বের লেটেস্ট জাপান ও জার্মান প্রযুক্তির মেশিনারিজ। কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় এক হাজার লোকের।

প্রাথমিকভাবে এখানে উত্পাদন হবে বার্ষিক ২৫ থেকে ৩০ লাখ ইউনিট হ্যান্ডসেট। স্থাপন করা হয়েছে ৬ টি প্রোডাকশন লাইন। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরো ১০ টি প্রোডাকশন লাইন স্থাপনের কাজ।

প্রতিটি প্রোডাকশন লাইনে পদ্ধতিগতভাবে হ্যান্ডসেট তৈরির কাজগুলো হচ্ছে। কারখানার ইউনিফর্ম-অ্যাপ্রনে সারিবদ্ধ কর্মীদের কেউ কেসিং জোড়া দিচ্ছেন, কেউ মাদারবোর্ড ও কি-বোর্ড লাগাচ্ছেন, কেউ বা বাটন চেক করছেন। এভাবে ধাপে ধাপে পরিপূর্ণতা পাচ্ছে একটি মোবাইল হ্যান্ডসেট।

ওয়ালটনের কর্মকর্তারা জানালেন, কারখানার জন্য আনা যন্ত্রপাতিগুলো জার্মানি ও জাপানি প্রযুক্তির। এরপর আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো আরেকটি ইউনিটে। এখানকার কর্মীরা দানবীয় সব মেশিনপত্রে নিজেরাই বড় বোর্ড কেটেকুটে তাতে খুব সূক্ষ্ম কাজ করছেন। আসলে তা মাদারবোর্ড তৈরির সারফেস মাউন্টিং টেকনোলজি (এসএমটি) সিস্টেমসহ আরো কিছু প্রযুক্তি ল্যাবের সন্নিবেশ।

শুরুতে চারটি উৎপাদন ইউনিট চালু করা হয়েছে। প্রতি ইউনিটে দিনে চার হাজার হ্যান্ডসেট উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মাসে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ লাখ হ্যান্ডসেট। আপাতত এতে ছয়টি মডেলের হ্যান্ডসেট সংযোজন করা হবে।

এই হ্যান্ডসেট কারখানা স্থাপনের জন্য ওয়ালটনের শুরুর বিনেয়োগ ১০০ কোটি টাকা। আসছে বছরই আরো বিপুল পরিমাণ অর্থ এতে বিনিয়োগ করা হবে। ধারাবাহিক বিনিয়োগের জন্য আরো তহবিল রয়েছে বলে জানান ওয়ালটনের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম।

২০১৮ সালেই উৎপাদন ইউনিট ১০-এ উন্নীত করতে চায় ওয়ালটন। বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা নিতে চায় এক কোটিতে, যেখানে ৭০ লাখ সাধারণ এবং ৩০ লাখের মতো স্মার্টফোন তৈরি হবে। এ ছাড়া হ্যান্ডসেটের কেসিং, চার্জার, ব্যাটারি, ইউএসবি কেবল, ডিসপ্লে, ইয়ারফোনসহ হ্যান্ডসেটের বেশির ভাগ যন্ত্রাংশও যেন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা যায়, সে চেষ্টাও করবে তারা।

মন্তব্য করুন

comments