ঢাকায় দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় রান্নাঘর প্রতিদিন রান্না হবে ৫ লাখ মানুষের খাবার

320
শেয়ার
ছবিঃ সংগৃহিত

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় রান্নাঘর তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে। এখান থেকে প্রতিদিন এ রান্না ঘর থেকে পাঁচ লাখ ঢাকাবাসীর খাবার সরবরাহ করা হবে।

মাছ, মাংস, কাঁচা তরকারি ধোয়া থেকে কাঁটা, ছোলা সবই হবে মেশিনে। ভারী মেশিনের চুলায় যাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে তা রান্না হয়ে বেরিয়ে আসবে। এই রান্না ঘরে কাজ করবে প্রতিদিন ৩ হাজার মানুষ।

শিল্পের মত বড় বড় ভারী মেশিনারিজের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে খান’স কিচেন। কিচেনটিতে ইতোমধ্যে মূলধনী যন্ত্রপাতি বসানো হয়ে গেছে। পরীক্ষামূলক ভাবে খাবার উৎপাদন শুরু করেছে প্রতিষ্ঠনটি। চলতি মাসের শেষের দিকে ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে খাবার বাজারজাতকরণে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

রাজধানীর নতুন বাজারের পূর্ব পাশে বেরাইদ এলাকায় ১৫ বিঘা জমির ওপর বেসরকারি উদ্যোগে রান্নাঘরটি প্রতিষ্ঠা করছেন নারী উদ্যোক্তা আফরোজা খান। তিনি এর নাম দিয়েছেন খান’স কিচেন। জমি, বিল্ডিং এবং ভারী যন্ত্রপাতির মতো অবকাঠামো নির্মাণে ইতোমধ্যে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় হাজার কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শেফ টনি খান প্রতিষ্ঠানটির সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকছেন।

আফরোজা খান বলেন, ‘ঢাকা হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল নগরী। যেখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে সাড়ে ৪৪ হাজার লোক বসবাস করেন, যাদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত কর্মজীবী। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রাজধানীতে অধিকাংশ মানুষ ভোগেন পেটের পীড়ায়। এর অন্যতম কারণ অস্বাস্থ্যকর খাবার। বলতে পারেন, তাদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই আমাদের এই উদ্যোগ।’

খান’স কিচেন এর মেন্যুতে থাকছে ভাত, ডাল, সবজি, মাছ ও মাংস। সঙ্গে থাকবে স্যুপ। বাদ যাবে না ডেজার্ট বা মিষ্টান্ন। সময়, সুযোগ ও চাহিদার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাখা হবে বিশেষ কিছু খাবার। স্বাস্থ্যকর, সুস্বাদু, পুষ্টিকর, জীবাণুমুক্ত ও সতেজ রুচিসম্মত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এবং টাটকা গরম খাবার সরবরাহ করাই এটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য।

রান্না করা খাবার সরবারহের জন্য বিশেষ প্লাস্টিকের বক্সে দেয়া হবে যা প্রায় ছয় থেকে আট ঘন্টা গরম থাকবে। দুপুরের খাবারের জন্য দুই ধরনের বক্সের দাম রাখা হবে ৯৫ টাকা এবং ১৩৫ টাকা। সর্বোচ্চ মানের কাঁচামাল, উৎপাদনের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, কম্পিউটারাইজড ল্যাবরেটরি, নিজস্ব প্যাকেজিং ইউনিটের আধুনিক ব্যবহার নিশ্চিত করে শতভাগ গুণগত মান বজায় রাখতে চান সংশ্লিষ্টরা।

খান’স কিচেনের নির্বাহী পরিচালক আলিফ আহমেদ খান বলেন, বিশুদ্ধ খাবারের অভাবে ঢাকার অধিকাংশ মানুষ পেটের পীড়ায় ভুগছেন। স্বাস্থ্যকর টাটকা খাবার সরবারহের জন্য জার্মান প্রযুক্তিতে খান’স কিচেন চালু হচ্ছে। খান’স কিচেনের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে রাজধানীর যে কোনও স্থানে।

মন্তব্য করুন

comments