ব্যাংকে নগদ লেনদেনে নতুন সীমা নির্ধারন করা হচ্ছে

193
শেয়ার
ছবিঃ সংগৃহিত

ব্যাংকে নগদ টাকা জমা ও তোলার ক্ষেত্রে সীমা আরোপ করা হচ্ছে। নগদ টাকার লেনদেনে মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাস ও জঙ্গি কার্যক্রমে অর্থায়নের ঝুঁকি রোধে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে নগদ অর্থের লেনদেনের বিকল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে।

বর্তমানে গ্রাহকরা যে কোনো বড় অঙ্কের টাকা নগদ তুলতে ও জমা দিতে পারেন। এর কোনো সীমারেখা নেই। বড় অঙ্কের এই লেনদেনের লাগাম টানার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা পেয়ে এ বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ নীতিমালা কার্যকর হলে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি টাকা নগদে তোলা বা জমা দেওয়া যাবে না। সীমার বেশি লেনদেন করতে হবে অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেক বা অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের মাধ্যমে। তবে এ সীমা কত হবে তা এখনও নির্দিষ্ট করা হয়নি।

নির্দিষ্ট সীমার বাইরে এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এটিএম কার্ড, অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-ব্যাংকিং ও চেকের মাধ্যমে লেনদেন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। নগদ লেনদেন সীমিত করার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া এক চিঠিতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

এদিকে সীমা বেঁধে দেওয়া হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও ব্যাংকাররা। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, নীতিমালা এমনভাবে করা হবে যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কোনো বিরূপ প্রভাব না পড়ে।

বর্তমানে, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে যে কোনো পরিমাণের টাকা নগদে জমা বা তুলতে পারেন। তবে নগদ লেনদেনের পরিমাণ ১০ লাখ টাকার বেশি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিএফআইইউতে রিপোর্ট করতে হয়। আবার কোনো লেনদেন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে সন্দেহ হলেও সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিএফআইইউকে জানাতে হয়।

নগদ লেনদেনে বর্তমানে কোনো সীমা নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলো বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। অন্যের অ্যাকাউন্টে টাকা জমার ক্ষেত্রে বাহকককে তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। বড় অঙ্কের অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেকের ক্ষেত্রে ব্যাংককে জানাতে হয়।

মূলত, জঙ্গি ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে জাতীয় কর্মকৌশল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের নির্দেশনার আলোকে নীতিমালা তৈরির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম এবং কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা দিচ্ছে।

মন্তব্য করুন

comments